মেধাক্রমে সারাদেশে প্রথম হয়েও প্রথম গেজেটে নাম না থাকায় তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা; দ্বিতীয় গেজেটে নাম আসায় পরিবার ও এলাকায় স্বস্তি।
আল মিজান ইসলাম, নীলফামারী প্রতিনিধি:
দৈনিক মাতৃভূমি প্রতিদিনে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে অবসান ঘটলো সব অনিশ্চয়তার। ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের ইতিহাস বিভাগে মেধাক্রমে সারাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেও প্রথম দফার চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেটে বাদ পড়া নীলফামারীর সন্তান সোহেল রানা অবশেষে দ্বিতীয় দফার গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলে সোহেল রানা ইতিহাস বিষয়ে সারাদেশে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছিলেন। তবে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রথম ধাপের চূড়ান্ত গেজেটে তাঁর নাম অনুপস্থিত থাকায় এই মেধাবী প্রার্থীর ভবিষ্যৎ ও কষ্টার্জিত সাফল্য নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে দৈনিক মাতৃভূমি প্রতিদিনে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি সুধীমহল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুততর হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা দ্বিতীয় ধাপের গেজেটে সোহেল রানার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্তির খবর পাওয়ার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সোহেল রানা বলেন, "মেধাক্রমে শীর্ষে থেকেও গেজেটে নাম না থাকায় এক দুঃসহ মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন পার করছিলাম। দৈনিক মাতৃভূমি প্রতিদিন আমার এই সংকট তুলে ধরে পাশে দাঁড়িয়েছিল। আজ চূড়ান্ত গেজেটে নাম দেখে মনে হচ্ছে সব অপেক্ষার সার্থক অবসান হলো। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।"
ছেলের এই সাফল্যে সোহেল রানার বাবা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, "ছেলের এমন অর্জনে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। মাঝখানে যে চরম দুঃচিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম, তা এখন কেটে গেছে। সে যেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও জাতির সেবা করতে পারে—এজন্য আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই।"
এদিকে সোহেল রানার গেজেটভুক্তির খবরে তাঁর নিজ এলাকা নীলফামারীতে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও শিক্ষানুরাগী মহল তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। মেধা ও যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সোহেল রানা দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।