
অর্থ লুট, চাঁদাবাজি, দখল ও মারামারিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন শান্তের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুবদলের এক নেতা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) যুবদল বিমানবন্দর থানা শাখার নেতা রাসেল সরকার প্রধানমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে এসব অভিযোগ উল্লেখ করেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, উত্তরা এলাকায় আল আমিন হোসেন শান্ত ‘ত্রাসের রাজত্ব’ কায়েম করেছেন। তার বিরুদ্ধে অর্থ লুট, চাঁদাবাজি, দখল ও মারামারিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের পর তার কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষকে মারধর, নির্মাণাধীন ভবন, মালবাহী যানবাহন ও স্থানীয় দোকানপাট থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি দক্ষিণখান বাজার দিয়ে রাতের বেলায় চলাচলকারী পণ্যবাহী গাড়ি থেকেও চাঁদা নেওয়া হত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৭ মার্চ, বিমানবন্দরের একটি তেলের পাম্পে কর্মীদের মারধর করে ক্যাশ থেকে ৯০ হাজার টাকা লুটের ঘটনায় উত্তরা পূর্ব থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এছাড়া ৪ এপ্রিল, দক্ষিণখানে স্যুয়ারেজ লাইনের সরকারি মাটির অবৈধ বিক্রিতে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতা রাসেল সরকারসহ তিনজনকে মারধরের ঘটনায় দক্ষিণখান থানায় আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, একের পর এক সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পরও আল আমিন হোসেন শান্তের বিরুদ্ধে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি সংগঠনের কিছু মহলের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। দুই থানায় মামলা থাকলেও তার বিরুদ্ধে তদন্ত বা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি।
এছাড়া, দক্ষিণখান থানাধীন হলান এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইনের উন্নয়নকাজের জন্য খনন করা সরকারি মাটি অবৈধভাবে বিক্রি করতে গিয়ে বাধা দিলে ৪ এপ্রিল দুপুরে আল আমিন ও তার সহযোগীরা লাঠি, ইট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে রাসেল সরকার গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে তার ভাতিজা মো. সাব্বির হোসেন রাজু, বন্ধু আবরারুল হক জুয়েলসহ আরও কয়েকজন আহত হন।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, একই দিন দুপুরে অভিযুক্তরা পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে বাদী আব্দুল বাসারকে মারধর করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী শেষ বক্তব্যে বলেন, সরকারের ও দলের ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য আল আমিন হোসেন শান্তের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।