
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, সেই সিদ্ধান্তের পরও উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজের পদ টিকিয়ে রাখতে তিনি পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত এই উপাচার্য, দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগে সার্চ কমিটি গঠনের পর থেকেই বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ‘জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ নামে শিক্ষকদের একটি সংগঠনের ব্যানারে একটি গোপন সভা আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টায় ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন-২ এর ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ‘স্বাধীনতার ঘোষণার ৫৫ বছর: সাহস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদ হাসান খানকে অতিথি হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অংশগ্রহণের কথাও জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, বিষয়টি গোপন রাখতে উপাচার্য তার পছন্দের ২৫ জন শিক্ষক ও ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। এমনকি আমন্ত্রণপত্রও গোপনে ছাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীর দাবি, ‘জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো স্বীকৃত সংগঠনের অস্তিত্ব নেই।
এদিকে গোপন সভার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাত থেকেই তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। একই সময়ে সভাস্থলের সামনে ‘শিক্ষক রাজনীতি চালুর প্রতিবাদ ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে’ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে শিক্ষক রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ব্যানারে কর্মসূচি আয়োজন সম্পূর্ণ বেআইনি। এছাড়া উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত সার্চ কমিটির সদস্যদের এমন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
অন্যদিকে, সভার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. ফেরদৌস রহমান দাবি করেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ একটি পেশাজীবী সংগঠন, যার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি বলেন, সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা উপস্থিত থাকবেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “এটি আমি আয়োজন করিনি, আমি নিজেও এখানে একজন অতিথি।”