
মুরাদ হোসেন বিপ্লব
বিবাহিত সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানসিক বা শারীরিকভাবে জড়ায়ে পড়াই হলো পরকীয়া। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি পরকীয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পারিবারিক ও সামাজিকভাবে নানা জটিলা সৃষ্টি হচ্ছে। সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে এ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাধানের পথ খোঁজা অত্যন্ত জরুরি।
পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণসমূহ
- মানসিক দূরত্বের সৃষ্টি: দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক যোগাযোগ, শ্রদ্ধা ও আবেগের অভাব দেখা দিলে মানুষ বাইরের কারো প্রতি ঝুঁকে পড়ে।
- অসন্তুষ্টি ও শারীরিক দূরত্ব: স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব বা শারীরিক অসন্তুষ্টি অনেক সময় নতুন সম্পর্কের প্রতি কৌতূহল বাড়ায়।
- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অপব্যবহার: ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপসহ নানা প্ল্যাটফর্মের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পরকীয়ার ক্ষেত্র তৈরিকে সহজ করে তুলেছে।
- নৈতিক শিক্ষার অভাব: পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের অনুশীলন কমে যাওয়াও একটি অন্যতম কারণ।
- একঘেয়েমি: একই ধরনের জীবনযাপনে মানসিক বৈচিত্র্যের অভাবে অনেকে রোমাঞ্চের খোঁজে ভুলের দিকে পা বাড়ান।
পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে এর ক্ষতিকর প্রভাব
- সম্পর্কের ভাঙ্গন ও বিবাহবিচ্ছেদ: পরকীয়ার ফলে পারস্পরিক বিশ্বাস ভেঙে যায়, যার চূড়ান্ত পরিণতি দাঁড়ায় বিবাহবিচ্ছেদে।
- সন্তানদের ওপর মানসিক আঘাত: পিতা-মাতার টানাপোড়েনের মাঝখানে পড়ে সন্তানেরা নিরাপত্তাহীনতা, হতাশা ও মানসিক উদ্বেগে ভোগে।
- পারিবারিক সহিংসতা: গোপন সম্পর্কের বিষয়ে জানাজানি হলে সংসারে হিংসা-বিদ্বেষ, মানসিক নির্যাতন এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা সহিংসতার জন্ম হয়।
- সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়া: এ ধরনের ঘটনা জানাজানি হলে সমাজের মধ্যে পরিবারের গ্রহণযোগ্যতা হ্রাস পায়।
উত্তরণ ও সমাধানের শিক্ষাভিত্তিক উপায়
- পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি: স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রতিদিন পর্যাপ্ত সময় কাটানো এবং খোলামেলা কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কোনো অসন্তোষ থাকলে তা আড়ালে না রেখে সরাসরি আলোচনা করা উচিত।
- নৈতিক ও মূল্যবোধের শিক্ষা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পরিবার থেকে নৈতিকতা, পারস্পরিক বিশ্বস্ততা ও পারিবারিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।
- প্রযুক্তির সচেতন ব্যবহার: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজেদের সীমা নির্ধারণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় আসক্তি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।
- পারিবারিক কাউন্সেলিং: দাম্পত্য সম্পর্কে তীব্র টানাপোড়েন বা দূরত্বের সৃষ্টি হলে বিশেষজ্ঞ কাউন্সেলর বা পারিবারিক জ্যেষ্ঠদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
- ক্ষমা ও দ্বিতীয় সুযোগ: অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝার পর যদি উভয়েই সম্পর্ক পুনর্গঠনে আগ্রহী হন, তবে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করা সম্ভব।
পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় রাখতে হলে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বস্ততার কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি পরিবারেই মূল্যবোধের চর্চা বজায় রেখে ও সচেতন হয়ে পরকীয়ামুক্ত সুস্থ সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

