
নিজস্ব প্রতিবেদক
অমর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা এই রিমান্ড আদেশ দেন।
আটক ও রিমান্ডের প্রেক্ষাপট
গত ৯ আগস্ট ভোরে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ আশরাফুল হক ডনকে আটক করে। ওই দিনই তাকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ২৩ আগস্ট সিআইডি ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে। আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য আজ বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর পর রাজধানীর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত বছরের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো: জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
আদালতের আদেশের পর ২১ অক্টোবর সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় (পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও পরস্পর যোগসাজশ) মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ডন ছাড়াও সালমানের স্ত্রী সামিরা হক, চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদকে (১৭) আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও একাধিক ব্যক্তি যুক্ত রয়েছেন।
এজাহারে থাকা সেই দিনের তথ্য
মামলার এজাহারে সালমানের মামা মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী, মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী) ও ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সাথে দেখা করতে যান। তখন তাদের জানানো হয় সালমান ঘুমাচ্ছেন।
এর কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের বিপদের কথা জানালে তারা দ্রুত বাসায় ফেরেন। গিয়ে দেখতে পান, সালমান শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় পড়ে আছেন এবং কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছেন। তখন পাশে সামিরার আত্মীয় রুবি উপস্থিত ছিলেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির স্পষ্ট দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান স্বজনেরা। প্রথমে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দীর্ঘ আইনি লড়াই
সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবিত থাকা অবস্থায় ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দরখাস্ত দাখিল করে অপমৃত্যু মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর ও সিআইডি তদন্তের আবেদন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর বর্তমানে সালমানের মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর।
স্বজনদের দাবি, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। সিআইডির রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অভিযুক্ত ডনের কাছ থেকে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

