
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির সংবেদনশীল বা নিজস্ব গোপনীয় তথ্য (ডক্সিং) ছড়িয়ে দিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলার একের পর এক অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি এমনই এক সাইবার হেনস্তা ও হুমকির শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। অনাকাঙ্ক্ষিত এ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তাহীনতার মুখে তিনি রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট ফেসবুক পেজ থেকে সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিনের ফোন নম্বর, ব্যক্তিগত ই-মেইল এবং স্থায়ী ঠিকানা জনসম্মুখে ফাঁস করে দেওয়া হয়। তথ্যগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই একের পর এক অচেনা নম্বর থেকে তার কাছে অশালীন বক্তব্য ও হুমকি সম্বলিত ফোন আসতে শুরু করে।
দৈনন্দিন জীবনের নিরাপত্তা ও বাসস্থানের গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হওয়ায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনি সুরক্ষার আবেদন জানান। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, নিজস্ব ঠিকানা প্রকাশিত হয়ে পড়ায় উক্ত স্থানে অবস্থান করাটাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জরুরি ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ ও অপরাধীদের শনাক্তকরণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শাহবাগ থানা সূত্রে জানা যায়, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে এরই মধ্যে তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যমে কন্টেন্ট শেয়ার করে ব্যক্তি নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পেছনে কারা জড়িত, তা উদঘাটনে কারিগরি বিশ্লেষণ চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাইবার বিশেষজ্ঞ মহল থেকে পুনরায় সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একই সঙ্গে নাগরিক সুরক্ষার স্বার্থে জনসমক্ষে তথ্য ফাঁসের (Doxxing) সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

