
আদালত প্রতিবেদক:
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। এ নিয়ে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ টানা ১২৯ বারের মতো পেছাল।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ঢাকার মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার দিন ধার্য ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থা নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) মামলার তদন্ত শুরু করেন। চার দিন পর তদন্তভার হস্তান্তর করা হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে। তবে দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত চালিয়েও রহস্য উদ্ঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্তের কোনো চূড়ান্ত সুরাহা না হওয়ায় সম্প্রতি মামলাটির জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়।
এ মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও এনামুল আহমেদ এবং তাঁদের বন্ধু তানভীর রহমান খান। আসামিদের মধ্যে তানভীর রহমান খান বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং জামিন পাওয়ার পর পলাশ রুদ্র পাল আত্মগোপনে চলে যান। অন্য আসামিরা বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।

