
নুরুল আমিন সোহেল, চট্টগ্রাম:
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহাসিক ও বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস। লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে গোটা নগরী রূপ নেয় এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে। হামদ, নাত, দরুদ শরীফ ও জিকির-আসকারের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টায় ষোলশহর জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে জশনে জুলুসের সূচনা হয়। বর্ণাঢ্য এই ধর্মীয় শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দেন দরবারে সিরিকোটের সাজ্জাদানশীন পীর আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ সাবির শাহ। শোভাযাত্রাটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি মোড়, ওয়াসা, লালখান বাজার ও টাইগারপাস এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
জুলুসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর আল্লামা সাবির শাহ বলেন, “প্রিয় নবীর (সা.) পৃথিবীতে শুভাগমনে আনন্দ প্রকাশ করা পবিত্র কোরআন ও হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত লাভে আনন্দ প্রকাশ ও ঈদ উদযাপন করার নির্দেশ রয়েছে। আর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন সমগ্র সৃষ্টির জন্য শ্রেষ্ঠ নেয়ামত।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “জশনে জুলুস এমন একটি আত্মশুদ্ধিমূলক কর্মসূচি যেখানে শরিয়তবিরোধী কোনো কাজ হয় না। কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশন ও রাসুলের (সা.) পবিত্র সীরাত আলোচনাই এই আয়োজনের মূল ভিত্তি। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন করতে পারা অত্যন্ত সৌভাগ্যের।”
জুলুস উপলক্ষে পুরো চট্টগ্রাম শহর সাজানো হয়েছিল নতুন রূপে। বিভিন্ন সড়ক, মোড় ও সড়ক বিভাজকগুলো আনজুমানের পতাকা, সবুজ ব্যানার, ফেস্টুন ও সুবিশাল তোরণে সজ্জিত করা হয়। শোভাযাত্রা ও সমাবেশ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরদার নিরাপত্তার পাশাপাশি গাউসিয়া কমিটির প্রায় ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং মানুষের ভোগান্তি কমাতে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার বন্ধ রেখে বিকল্প সড়কে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়।
অনুষ্ঠানে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীনসহ ক্যাবিনেট সদস্য ও গাউসিয়া কমিটির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে আওলাদে রাসুল আল্লামা হাফেজ সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) চট্টগ্রামে ঐতিহ্যের এই জশনে জুলুসের প্রবর্তন করেন। সেই থেকে প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এই বিশাল আয়োজন উদযাপিত হয়ে আসছে।

