
রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
ভরা বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে ড্রেন পরিষ্কার ও মাটি উত্তোলনের কাজ পরিচালিত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশকে শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি ড্রেনে নেমে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করতে দেখা গেলেও কাজের বিল পরিশোধে বড় ধরনের বৈষম্য ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কাজের ন্যায্য মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, জলাবদ্ধতা কমানো এবং মেয়রের কর্মসূচি সফল করতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও শ্রমিকদের পাশাপাশি নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে কাজ করেন। একসঙ্গে ৪১টি ওয়ার্ডে কাজ শুরু হওয়ায় এলাকায় তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। অতিরিক্ত মজুরি দিয়েও অনেক সময় প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যায়নি। ফলে অনেক নেতাকর্মী নিজেদের ব্যক্তিগত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে কাজ শেষ করেছেন।
কাজের বিল ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে বর্তমানে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ দুই হাজার ফুট ড্রেন পরিষ্কার করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিল পেয়েছেন, আবার কেউ আড়াই হাজার ফুট বা এর বেশি কাজ করেও পেয়েছেন মাত্র ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মতো। একই প্রকৃতির ও পরিমাণের কাজের বিলের অঙ্কে এই ধরনের পার্থক্যের কারণ এবং এর অনুমোদনের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। কার অনুমোদনে বা কোন মানদণ্ডে এই হিসাব করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জোরালো দাবি উঠেছে।
জনস্বার্থে এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে। কাজের পরিমাণ অনুযায়ী বিল নির্ধারণের নির্দিষ্ট মানদণ্ড কী, একই কাজের বিলের পরিমাণে কেন তারতম্য হলো এবং প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় পরিশোধিত অর্থের হিসাবের মধ্যে কোনো গরমিল আছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
মাঠপর্যায়ের কাজের প্রকৃত পরিমাণ, শ্রমিকদের পেছনে প্রকৃত ব্যয়, বিল-ভাউচারের হিসাব এবং অর্থ পরিশোধের পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম, পক্ষপাত বা বিশেষ তদবিরের প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
মাঠে ঘাম ঝরানো নেতাকর্মী ও শ্রমিকদের শ্রমের সঠিক মূল্যায়নের পাশাপাশি জনগণের অর্থের প্রতিটি পাইপয়সার স্বচ্ছ হিসাব নিশ্চিত করার দাবি তুলে বলা হয়েছে—’চামুচতন্ত্র’ নয়, বরং সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কাজের ন্যায্য মূল্যায়ন চাই।

