
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও লাফিয়ে বাড়ছে। পরপর দুই সেশনে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২ ডলারের মতো বৃদ্ধি পেয়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ১৮ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৬৭ ডলারে পৌঁছায়। এর আগে সোমবারও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়ে ৮৮.৩৭ ডলারে উঠেছিল।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ১ দশমিক ২৭ ডলার বা ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তেলবাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিভিএমের বিশ্লেষক জন ইভান্স জানান, উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা সেই আশঙ্কাকেই জোরালো করছে যা ইঙ্গিত দেয় এই সংঘাত সহজে মিটছে না, বরং আরও দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ ও হরমুজ প্রণালি সংকট:
যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে। তবে চলমান যুদ্ধের কারণে বর্তমানে এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে।
প্রণালিটি পুনরায় নিরাপদ ও উন্মুক্ত করার জন্য কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হলেও তা এখনও সফলতার মুখ দেখেনি। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে, যা তেলের বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

