মাসদারের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, যা বললেন আইনমন্ত্রী

মাসদার হোসেনের বিরুদ্ধে সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ মামলার বাদী ও সাবেক জেলা ও দায়রা জজের বিরুদ্ধে এক মক্কেলের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বিপুল অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পরও তিনি মামলার বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। এতে ভুক্তভোগীকে অতিরিক্ত ৪২ লাখ টাকার বেশি জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি গণমাধ্যমে দেখেছেন। একজন মক্কেল অভিযোগ করেছেন যে, চেকের মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, অভিযোগটি বার কাউন্সিলে গেলে তারা সনদ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। পাশাপাশি এতে মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি ও আয়কর সংক্রান্ত বিষয় থাকতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করবে। জানা গেছে, গত বছরের ১ ডিসেম্বর নূর প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের লিগ্যাল অ্যান্ড অ্যাডমিন কর্মকর্তা জামাল হোসাইন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়, করসংক্রান্ত একটি মামলায় আপিলের জন্য কোম্পানির চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারী আইনজীবী মাসদার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কর শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মাসদার হোসেন ১ কোটি ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে বিভিন্ন সময়ে চেকের মাধ্যমে তাকে মোট ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়, যা তিনি রসিদ দিয়ে গ্রহণ করেন। এছাড়া ভ্যাট আপিলের জন্য অতিরিক্ত ২০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়। তবে অভিযোগে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি মামলাটি যথাযথভাবে তদারকি করেননি এবং কোম্পানিকে কোনো হালনাগাদ তথ্য দেননি। পরবর্তীতে অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে জানা যায়, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর মামলায় ৪২ লাখ ৯ হাজার ২৭৩ টাকা জরিমানাসহ রায় হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কর সম্পূর্ণ মওকুফের আশ্বাস দিয়ে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা নেওয়া হলেও চুক্তি অনুযায়ী কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় কোম্পানিটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। এ অবস্থায় নেওয়া অর্থ ক্ষতিপূরণসহ ফেরতের দাবি জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মাসদার হোসেন বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার দাবিতে রিট দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের রায় এবং ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর বিচার বিভাগ পৃথককরণ বাস্তবায়িত হয়। ঐতিহাসিক এই মামলাটি ‘মাসদার হোসেন মামলা’ নামে পরিচিত।

নিউজ

অবৈধ ওষুধ বিক্রির তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি জামালপুরে সাংবাদিককে হেনস্তা, হুমকি ও মারধরের অভিযোগ  সিসিটিভি...

আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব ট্রাস্টের নীলফামারী জেলা সভাপতির পদত্যাগ

নীলফামারী প্রতিনিধিআন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব ট্রাস্ট-এর নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি...

চট্টগ্রামে ৮,২৮৫ পিস ইয়াবাসহ ৩ রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার

 মুরাদ হোসেন বিপ্লব, চট্টগ্রামচট্টগ্রাম নগরের আকবরশাহ থানা এলাকার বায়েজিদ...

সালমান শাহর মৃত্যুর ৩০ বছর: আত্মহত্যা নাকি হত্যা? আইনি লড়াই ও রহস্যের তিন দশক

বিনোদন ডেস্কনব্বই দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের ক্ষণজন্মা ও তুমুল জনপ্রিয়...

সকালের মধ্যে ঢাকাসহ ১২ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১২টি জেলায় সকালের মধ্যেই কালবৈশাখী বা দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে...

পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার কারণ, সামাজিক সমস্যা ও উত্তরণের শিক্ষামূলক উপায়

মুরাদ হোসেন বিপ্লববিবাহিত সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে অন্য কোনো ব্যক্তির সঙ্গে মানসিক বা শারীরিকভাবে জড়ায়ে পড়াই হলো পরকীয়া। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি পরকীয়ার প্রবণতা...

নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গেই বাস্তবায়ন করা হবে: তথ্য উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিকদের চাকরির স্থায়িত্ব ও জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করা না গেলে বস্তুনিষ্ঠ ও মানসম্মত সাংবাদিকতা সম্ভব নয়—এই আশাবাদ ব্যক্ত করে সরকারের নতুন জাতীয় পে-স্কেলের...