বিবাহ ও সংসার জীবনে একজন উপযুক্ত জীবনসঙ্গী নির্বাচন মানবজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ঐতিহ্যগতভাবে রূপ-চেহারা, শারীরিক গঠন কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার চল সমাজে বহুদিন ধরেই বিদ্যমান। তবে বর্তমান আধুনিক মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, স্থূলকায় বা তুলনামূলক স্বাস্থ্যবান (মোটা) নারীদের স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার মধ্যে বেশ কিছু ইতিবাচক ও ব্যতিক্রমী দিক রয়েছে। বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রচলিত ছকের বাইরে গিয়ে একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, আবেগিক পরিপক্কতা এবং সহনশীলতাই যে একটি সফল দাম্পত্যের মূল ভিত্তি, তা বিশ্বজুড়ে পরিচালিত একাধিক সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
উষ্ণ ব্যক্তিত্ব ও আবেগিক পরিপক্কতা
মেক্সিকোর ন্যাশনাল অটোমোমাস ইউনিভার্সিটি (UNAM)-এর মনস্তত্ত্ব বিভাগের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, যে সকল পুরুষ স্বাস্থ্যবান বা প্লাস-সাইজ নারীদের বিয়ে করেন, তারা দাম্পত্য জীবনে তুলনামূলক বেশি সুখী ও সন্তুষ্ট থাকেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, স্থূলকায় নারীরা সাধারণ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কম বয়সেই মানসিক শক্তিমত্তা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলেন। ফলে তারা সংকটে সহজেই ভেঙে পড়েন না এবং সঙ্গীকে মানসিক সমর্থন দিতে বেশি সক্ষম হন। তাদের খোলামেলা স্বভাব ও অমায়িক ব্যবহার সংসারকে প্রাণবন্ত রাখে।
কম মানসিক চাপ ও সহনশীল মনোভাব
খাদ্যাভ্যাস কিংবা শারীরিক গঠন নিয়ে প্রতিনিয়ত সচেতন থাকার অতিরিক্ত চাপ এদের অধিকাংশের মধ্যে থাকে না। এর ফলে দৈনন্দিন জীবনের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এদের মধ্যে খিটখিটে মেজাজ বা হীনম্মন্যতা কম দেখা যায়। সঙ্গীর ভুলত্রুটি বা সীমাবদ্ধতাগুলোকে তারা সহজভাবে মেনে নিতে পারেন। ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দাম্পত্য জীবনে কলহ সৃষ্টি না করে তারা সমঝোতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দিকেই বেশি জোর দেন।
আন্তরিকতা ও কেয়ারিং মনোভাব
সামাজিক অভিজ্ঞতার কারণে অনেক স্বাস্থ্যবান নারী মানুষের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল ও যত্নশীল হয়ে থাকেন। পরিবার, স্বামী ও সন্তানের প্রয়োজনকে তারা আন্তরিকতার সঙ্গে অগ্রাধিকার দেন। রান্নাবান্না কিংবা অতিথিপরায়ণতায় এদের জুড়ি মেলা ভার। তাদের এই আন্তরিক পরিবেশন ও ভালোবাসার আবহ সংসারকে একটি সুন্দর, সুরক্ষিত আশ্রয়স্থলে পরিণত করে।
কৃত্রিমতাহীন সহজ-সরল জীবনযাপন
রূপচর্চা বা বাহ্যিক প্রদর্শনীর পেছনে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয়ের চেয়ে তারা সম্পর্কের মূল ভিত্তিগুলোতে বেশি মনোযোগ দেন। সম্পর্কের মধ্যে কৃত্রিমতা না থাকা এবং সততা ধরে রাখা তাদের অন্যতম বিশেষ গুণ। স্বামীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয় খোলামেলা ও স্বচ্ছ, যা একটি সুস্থ ও টেকসই বৈবাহিক সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শর্ত।
একটি সুখী দাম্পত্য জীবন কখনোই স্ত্রীর ওজন বা বাহ্যিক আকারের ওপর নির্ভর করে না। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, বোঝাপড়া এবং মানসিক মেলবন্ধন। তবে প্রচলিত ধারণাকে ভেঙে দিয়ে স্থূলকায় নারীরাও যে চমৎকার, সহনশীল এবং অত্যন্ত ভালোবাসাময় স্ত্রী হতে পারেন—তা আধুনিক জীবনযাত্রায় বারবার প্রমাণিত হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দৈনন্দিন জীবনের নানা শারীরিক অসুস্থতায় প্রাকৃতিক উপাদানের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। বহুকাল ধরে ভেষজ চিকিৎসায় থানকুনি পাতা একটি অতি পরিচিত ও বিশ্বস্ত নাম। সাধারণ...
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাসায়নিক প্রসাধনীর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে রূপচর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর ত্বক ও ঝলমলে চুলের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে কার্যকর...
মাতৃভূমি প্রতিদিন ডেস্ক:
সুস্থ, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত ত্বক কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং তা সার্বিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতারও নির্দেশক। তবে আধুনিক কর্মব্যস্ত জীবন,...