- নিজস্ব প্রতিবেদন:
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বুধবার ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে নগরীর পাহাড়তলীর বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সকল ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ করা হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরা হবে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যান, বধ্যভূমি, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরসহ মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত সব গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালায়। সেই সময় দিকনির্দেশনাহীন একটি জাতিকে চট্টগ্রাম থেকে সাহস জুগিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং বিপ্লব উদ্যান এলাকা থেকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ইতিহাস চট্টগ্রামের গর্বের অংশ।
মেয়র আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। আমরা এখনও পুরোপুরি জানি না কতজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং কতজন শহীদ হয়েছেন। এ কারণে একটি নির্ভুল গেজেট প্রকাশ করা জরুরি, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিভ্রান্ত না হয়। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি এবং অযোগ্য ব্যক্তিরা মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সম্মান নিশ্চিত করতে হবে।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। তবে অনেক স্থাপনা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সিটি কর্পোরেশনও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে।
মেয়র বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান এবং শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এসব ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে না পারলে জাতি হিসেবে আমরা দায়মুক্ত হতে পারব না।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ডা. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানাসহ বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং স্থানীয় জনগণ।


