Blog

  • ফটিকছড়িতে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকদের সড়ক অবরোধ

    ফটিকছড়িতে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থকদের সড়ক অবরোধ

    চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহারকে মনোনয়ন না দেওয়ায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন তাঁর সমর্থকেরা। আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে তাঁরা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পুলিশের আশ্বাসে রাত আটটার দিকে তাঁরা অবরোধ তুলে নেন।

    ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্র জানায়, ফটিকছড়ি সদরের বিবিরহাটে এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর নাজিরহাট ও হেঁয়াকোতে তিন দফায় বিক্ষোভ করেন কর্মী-সমর্থকেরা। তাঁরা অবিলম্বে সরোয়ার আলমগীরকে প্রত্যাহার ও আজিম উল্লাহ বাহারকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।

    এদিকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়ে যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে প্রায় দুই ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

    ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সমাবেশ করেন আজিম উল্লাহ বাহারের সমর্থকেরা। সমাবেশ শেষে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় তাঁর কর্মীরা সড়ক অবরোধ করেন। তিন শতাধিক কর্মী দুই স্থানে সড়কে বসে ছিলেন এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে আমরা গিয়ে সবাইকে বোঝালে অবরোধ তুলে নেন।’

    উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িসহ ১৬ আসনের মধ্যে ১০টিতে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ফটিকছড়ি আসনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলমগীরকে দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এই আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আজিম উল্লাহ বাহারসহ পাঁচজন।
  • সীতাকুণ্ডে এবার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ তিন নেতার সদস্যপদ স্থগিত

    সীতাকুণ্ডে এবার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কসহ তিন নেতার সদস্যপদ স্থগিত

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমল কদরসহ তিন নেতার সদস্যপদ স্থগিত করেছে বিএনপি। অন্য দুই নেতা হলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. মোরসালিন এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব কুরবান আলী।

    আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় নীতি ও সংগঠনবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে।

    সদস্যপদ স্থগিত হওয়া তিন নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের ছোট ভাই।

    আসলাম চৌধুরীর অনুসারী নেতাদের দাবি, সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপি তাঁর নেতৃত্বে একতাবদ্ধ। মনোনয়ন নিয়ে কিছু নেতার প্ররোচনায় কেন্দ্রীয় বিএনপি আসলাম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ নেতাদের বহিষ্কার করছে।

    এর আগে ৪ নভেম্বর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আলাউদ্দিন মনি, সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. মামুন এবং সোনাইছড়ি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন উদ্দিনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ চারজনও আসলাম চৌধুরীর অনুসারী।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ৩ নভেম্বর আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরা ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেই ঘটনার পরই তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    সদস্যপদ স্থগিত হওয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমল কদর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে কাজ করছি। তিনি ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ার আশ্বাসও পেয়েছেন। হয়তো সেই কারণেই আমাদের পদ স্থগিত করা হয়েছে।’

    সদস্যপদ স্থগিত হওয়া অন্য নেতা মো. মোরসালিন বলেন, ‘সীতাকুণ্ডে বিএনপি এখনো আসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। আমি কোনো দলবিরোধী কাজ করিনি। মামলা–মোকদ্দমার ঝুঁকি নিয়ে দলের জন্যই কাজ করছি। সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি ফেসবুকের মাধ্যমে জেনেছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

  • নরসিংদীর চরাঞ্চলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ১৫

    নরসিংদীর চরাঞ্চলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ১৫

    নরসিংদীর চরাঞ্চল চরদিঘলদীতে খেয়াঘাটের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জের ধরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। আজ শনিবার সদরের মাধবদীর জিতরামপুরে দুই দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জিতরামপুরে আধিপত্য বিস্তার ও খেয়াঘাটে ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় নিয়ে স্থানীয় শহিদ মিয়া ও চান মিয়া গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

    আজ সকালে এলাকায় পুলিশ না থাকার সুযোগে মাইকে ঘোষণা দিয়ে ফের টেঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। এ সময় টেঁটাবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহত ব্যক্তিদের কয়েকজন নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।

    নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন ফখরুল (৪৫), খায়রুল (৪০), আরাফাত (২৫), জাকির (৫০), রুবেল (৩২), ছোট জাকির (৩৫), মো. দুলাল (৫০), খালেক মিয়া (৬০) প্রমুখ।

    এ ঘটনায় বিবদমান দুই পক্ষের নেতা শহিদ মিয়া ও চান মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম জানান, ভোরের দিকে উত্তেজিত হয়ে ওই দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

  • ঠাকুরগাঁও-২ আসনে দলীয় প্রার্থী চান বিএনপির নেতা–কর্মীরা

    ঠাকুরগাঁও-২ আসনে দলীয় প্রার্থী চান বিএনপির নেতা–কর্মীরা

    জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার আংশিক) ১৯৯৬ সালের পর থেকে নিজ দলের প্রার্থী পাননি বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। জোটের হিসাব–নিকাশে পড়ে ২০০১ সাল থেকে সেখানে বরাবর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে ছাড় দিয়েছে দলটি। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এবার আর শরিক কোনো দলকে ছাড় দিতে চায় না বিএনপি।

    স্থানীয় নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, আসনটি বারবার শরিকদের ছেড়ে দেওয়ায় মাঠপর্যায়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বিএনপির। এবার সেটার অবসান চান তাঁরা। এবার নির্বাচনে এ আসন অন্য কোনো দলকে দেওয়া হলে তৃণমূল পর্যায়ে বিদ্রোহ দেখা দিতে পারে।

    দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-২ আসনটি বরাবর আওয়ামী লীগ ও তাদের শরিকদের দখলে ছিল। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে এখানে মির্জা রুহুল আমিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে ১৫-দলীয় জোটের প্রার্থী নির্বাচিত হন দবিরুল ইসলাম। ১৯৮৮ সালে আসনটি দখলে নেয় জাতীয় পার্টি। সেবার সেখানে জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী হন মির্জা রুহুল আমিন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হয়ে দবিরুল ইসলাম আসনটি পুনরুদ্ধারের পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এর পর থেকে আসনটি দবিরুল ইসলাম ও তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলামের দখলে ছিল। এই আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আলতাফুর রহমান এবং ১৯৯৬ সালে জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী। তবে সেবার নির্বাচনে তাঁরা প্রত্যাশিত ফলাফল পাননি। এর পর থেকে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন শুরু করতে গিয়ে আসনটি জামায়াতকে ছেড়ে দেওয়ায় বিএনপির কেউ এ আসনে প্রার্থী হতে পারেননি। ছাড় পেয়ে ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হন আব্দুল হাকিম। বিএনপির সমর্থন নিয়ে আব্দুল হাকিম কেবল ভোটের ব্যবধান কমিয়েছেন। কিন্তু জয়ী হতে পারেননি। এতে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

    বিএনপির নেতা-কর্মীরা বলছেন, এই আসনের জাতীয়তাবাদী চেতনার মানুষ এখন অবহেলিত। এর পেছনের কারণ, দীর্ঘদিন বিএনপির কোনো নেতাকে সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকাবাসী পাননি। বিএনপির নেতা-কর্মীরা জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজেদের ভোট জামায়াতের বাক্সে তুলে দিয়েছেন। এরপরও ইতিবাচক ফল আসেনি। এবার জামায়াত আলাদা নির্বাচন করায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে আশা জেগে ওঠে। দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নির্বাচনী মাঠ সাজাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সক্রিয় হয়ে ওঠেন কর্মীরা।

    ৩ নভেম্বর রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে ঠাকুরগাঁও-২ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। ঘোষণার এক পর্যায়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, যেসব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি, সেখানে বিএনপির সঙ্গে যেসব দল যুগপৎ আন্দোলন করেছে, তারা আসতে পারে। এ ঘোষণায় স্থানীয় নেতা-কর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন।

    বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর ধরে সংসদ নির্বাচনে আমরা দলীয় কোনো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারিনি। যদিও জেতার মতো আবস্থান ছিল বিএনপির। আমরা নিজেরা পরিশ্রম দিয়ে জামায়াতের ভিত মজবুত করেছি। এবার জামায়াত না থাকায় নেতা-কর্মীরা আশায় বুক বেঁধে ছিল। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণা না দেওয়ায় আমরা আবারও হতাশ। এবার বিএনপির প্রার্থী ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রার্থীকে মেনে নেব না।’

    উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জুলফিকার আলী বলেন, ‘দীর্ঘদিন এই আসনটি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এ সময় বিএনপির নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত-নির্যাতিত হয়েছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর নির্বাচনে বিএনপির জনপ্রতিনিধি পাব—এমনটাই আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছি। এবার দলীয় কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া না হলে আসনটি হারানোর আশঙ্কা দেখছি।’

    আবুল হাশেম নামে হরিপুর উপজেলার এক বিএনপির কর্মী বলেন, ‘হামা বিএনপি পাগল। অনেক বছর ধানের শীষে ভোট দিবা পারুনি। হামার লোক না থাকিলে অন্যঠে ভোট দিবা যামোনি।’ বিএনপির কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে জোটের প্রার্থী জামানত হারাবেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

    একই উপজেলার আরেক বিএনপির কর্মী কবিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা চাই বিএনপির মহাসচিব এখানে সরাসরি নির্বাচন করুক। আর তা না হলে তাঁর পরিবারের অন্য কাউকে প্রার্থী করা হোক। আমরা এবার দলের বাইরে কোনো প্রার্থীকে ভোট দেব না।’

    হরিপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের বলেন, ‘আমরা এবার এ আসনে ধানের শীষ মার্কারই (বিএনপি) প্রার্থী চাই। সে যে–ই হোক। এভাবে চলতে থাকলে দল ক্ষতির মুখে পড়বে। আমরা অন্তত এবার আশা করছি, আমাদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দেওয়া হবে। শরিক দলের কোনো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এলাকার মানুষ মানবে কেন?’

    এবারের নির্বাচনে এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সাবেক মহাসচিব আব্দুস সালাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী।

    জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী বলেন, ‘যেসব দল যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, এই আসনে তাদের অবস্থান একেবারে নেই বললেই চলে। বিএনপি ছাড়া অন্য দলকে আসনটি ছেড়ে দিলে তারা জয়লাভ করতে পারবে না। এসব নিয়ে আমরা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আছি। আমাদের দলের নেতারা পাল্লা পাল্লা করতে গিয়ে নিজের দলের প্রতীকটাই ভুলতে বসেছিলেন। এখন সুযোগ এসেছে। আমরা চাই দলের প্রার্থী। দলের প্রার্থী পেলে এই আসনে সহজেই বিএনপি জয়ী হবে। কারণ, এখানে জামায়াত যে ভোট পায়, তার বেশির ভাগই আমাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের।’

    মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, ‘ওই আসনে দীর্ঘদিন আমার বাবা সংসদ সদস্য ছিলেন। এরপর সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। পরে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করার কারণে জামায়াতকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হয়। আসনটি পুনরুদ্ধারে বিএনপি নেতা-কর্মীরা এবারের নির্বাচনে আমাদের পরিবার থেকে একজনকে প্রার্থী হিসেবে চাচ্ছেন। এসব বিবেচনা করে দল সেখানে এখনো কোনো প্রার্থী দেয়নি। ওই আসনে দলীয় প্রার্থীই নির্বাচন করবেন। আসনটি জোটকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জনটি সঠিক নয়।’

  • পটুয়াখালীতে ধরা পড়ল বিরল সামুদ্রিক মাছ, এক লাখ টাকায়ও বিক্রি করলেন না জেলে

    পটুয়াখালীতে ধরা পড়ল বিরল সামুদ্রিক মাছ, এক লাখ টাকায়ও বিক্রি করলেন না জেলে

    পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ২১ কেজি ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি কালো পোয়া মাছ ধরা পড়েছে।

    জেলে আবদুল মান্নান বলেন, এফবি ভাই ভাই ট্রলারে করে তিন দিন আগে তাঁরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যান। তিনি জাল ফেললে অন্য মাছের সঙ্গে এই মাছ উঠে আসে।

    আজ শনিবার সকালে মাছটি মহিপুর মৎস্যবন্দরের ফয়সাল ফিশ আড়তে বিক্রির জন্য আনা হয়। এ সময় মাছটি একনজর দেখতে মানুষের ভিড় জমে যায়। সচরাচর এ ধরনের মাছ জেলেদের জালে ধরা পড়ে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    ফয়সাল ফিশ আড়তের ব্যবসায়ী রাজু মিয়া জানান, মাছটি ডাকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দাম উঠেছে। তবে বেশি দামের আশায় মাছটি বিক্রি না করে চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। মাছটির বায়ুথলির অনেক দাম বলে তিনি শুনেছেন। সে কারণে চট্টগ্রামে নিয়ে মাছটি ভালো দামে বিক্রির আশা তাঁর।

    স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মহিপুর বন্দরে আজ এমন এক মাছ উঠেছে, যা সচরাচর দেখা যায় না। সকালে খবর শুনে তিনি দেখতে এসেছেন।

    উপকূলের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করে আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ডফিশ। তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইকোফিশ বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার গবেষণা সহকারী বখতিয়ার রহমান বলেন, কালো পোয়া একটি বিরল সামুদ্রিক মাছ। এদের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৫০–১৮০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয় এবং ওজন ১০–২৫ কেজি হলেও কখনো কখনো ৫০ কেজির বেশি হতে পারে। কক্সবাজার, মহেশখালী, সেন্ট মার্টিন, পটুয়াখালী ও বরিশাল উপকূলে এ মাছ দেখা যায়। কাদামাটি বা বালুময় তলদেশে এরা বসবাস করে এবং ছোট মাছ, চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে।

    কলাপাড়া উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা প্রথম আলোকে বলেন, মাছটির এয়ার ব্লাডার (বায়ুথলি) আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত দামি। একে ব্ল্যাক স্পটেড ক্রোকারও বলা হয়। সরকার ঘোষিত মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সুফলেই এখন জেলেরা এমন বড় ও দুষ্প্রাপ্য মাছ ধরতে পারছেন। এতে জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

  • Hello world!

    Welcome to WordPress. This is your first post. Edit or delete it, then start writing!