আবু বক্কর সিদ্দিক, উখিয়া উপজেলা, কক্সবাজার:
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকায় মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করে রাখা বিপুল পরিমাণ এসিড জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ স্টেশন এলাকার জকরিয়া মার্কেটের নিচতলার একটি ভাড়া করা দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোয়েন্দা সংস্থার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পালংখালী ইউপি চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী এবং র্যাব-১৫ এর একটি আভিযানিক দল যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান চালায়।
অভিযানের সময় আক্তার হোসেন (৩২) নামের এক ব্যক্তির ভাড়া নেওয়া দোকান থেকে আনুমানিক ৩ টন বা প্রায় ৩ হাজার লিটার এসিড জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা এসিড ১০০টি ৩০ লিটারের জেরিকেনে সংরক্ষিত ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পরে খবর পেয়ে উখিয়া থানার এসআই শুভ সরকার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জব্দকৃত আলামত হেফাজতে নেন। নিরাপত্তার স্বার্থে দোকানটির শাটার নামিয়ে তালাবদ্ধ করা হয় এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের জিম্মায় রাখা হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষার জন্য একটি ৩০ লিটারের কন্টেইনার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে থানায় পাঠানো হয়েছে।
জব্দকৃত এসিডের মালিক হিসেবে আক্তার হোসেনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি পালংখালী ইউনিয়নের আঞ্জুমানপাড়া এলাকার মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে বলে জানা গেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, এসব রাসায়নিক দ্রব্য মিয়ানমারে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় কিছু চক্র দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের আরাকান আর্মি (এএ)সহ বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠীর কাছে এসব রাসায়নিক পাচার করে আসছে। এসব এসিড মাদক (ইয়াবা ও আইস) উৎপাদন ও বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মার্কেট মালিকসহ সংশ্লিষ্ট আরও ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি পুরো চক্র শনাক্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উখিয়া থানায় এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


