Home Blog Page 8

স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি নয়, হাইকোর্টের রুল

দেশের সব নাগরিকের জন্য সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১৮ মে) এ সংক্রান্ত এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এই রুল দেন। রুলে বলা হয়েছে, ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ নিশ্চিতের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা ব্যাখ্যা দিতে হবে। এছাড়া, স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নে তদারকি, পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এক মাসের মধ্যে একটি স্বাধীন কমিটি গঠনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঈদের আগেই ফিলিং স্টেশন নিয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা

0

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে যান চলাচলে ভোগান্তি কমাতে টানা ১৩ দিন এই বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। সম্প্রতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে একটি নির্দেশনাপত্র পাঠানো হয়েছে। সেখানে আগামী ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন সার্বক্ষণিক চালু রাখার সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পর পাঁচ দিন ফিলিং স্টেশনগুলো দিন-রাত খোলা থাকবে, যাতে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা সহজ হয়। এদিকে, আগামী ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সরকারি ও আধাসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি ঈদকে সামনে রেখে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হবে পোশাক কারখানাগুলোতেও।

প্রতিশ্রুতি এক, বাস্তবতা আরেক: ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে দায়সারা সংস্কার।

প্রতিশ্রুতি এক, বাস্তবতা আরেক: ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে দায়সারা সংস্কার।

বাঘাইছড়ি (রাঙামাটি) প্রতিনিধিঃ 

 

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা প্রধান সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ব্যবহার করে সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। তবে বাস্তবে সেই আশ্বাসের প্রতিফলন না দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জিও ব্যাগের পরিবর্তে সিমেন্টের খালি বস্তায় মাটি ভরে দায়সারাভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পাহাড়ি ঢলের পানিতে বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশিত হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা জানিয়েছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ব্যবহার করে মেরামতের কাজ করা হবে।

 

কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ ভাঙনস্থলে কোনো ধরনের জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয়নি। বরং সিমেন্টের খালি বস্তায় মাটি ভরে তা ভাঙন অংশে ফেলে অস্থায়ীভাবে মাটি চাপা দেয়ার কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের সংস্কার টেকসই তো নয়ই, বরং সামান্য বৃষ্টিতেই আবার ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিবছর একইভাবে সড়ক ভাঙে এবং পরে অস্থায়ী সংস্কারের নামে দায়সারা কাজ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এতে জনদুর্ভোগ কমার পরিবর্তে আরও বাড়ছে।

 

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, সড়কের যে সব জায়গায় কংক্রিট/সিমেন্টের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে আজ ১৮ মে বৃষ্টিতে সব ধুয়ে গেছে।অনেকাংশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও রাস্তার কিনারা ধসে গেছে, কোথাও বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এসব অংশ দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলের সময় ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

 

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন, “জিও ব্যাগের পরিবর্তে আপাতত সিমেন্টের বস্তা ব্যবহার করা হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এসব স্থানে কংক্রিট ব্যবহার করে পরবর্তীতে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করার। তবে হঠাৎ বৃষ্টির কারণে সেই কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

 

স্থানীয় পরিবহন চালক জহিরুল ইসলাম এর অভিযোগ, পাহাড়ি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি নিয়ে প্রতি বছর আলোচনা হলেও কার্যকর ও টেকসই সংস্কার বাস্তবে খুব কমই দেখা যায়। ফলে বর্ষা এলেই আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয় সাধারণ মানুষকে।

 

এদিকে সওজের পক্ষ থেকে পূর্বে জানানো হয়েছিল, ভবিষ্যতে সড়কটির প্রশস্ততা ১২ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৮ ফুট করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের আগ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে কেন টেকসই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

 

সংশ্লিষ্টদের মতে, পাহাড়ি এলাকায় সড়ক রক্ষায় মানসম্মত প্রতিরোধব্যবস্থা ও প্রকৌশলভিত্তিক পরিকল্পনা ছাড়া প্রতিবছরের এই ভাঙন ও সংস্কারের চক্র থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।

প্রশিক্ষণের দক্ষতা সবার কাছে ছড়িয়ে দিন: ডিসি জাহিদ

প্রশিক্ষণের দক্ষতা সবার কাছে ছড়িয়ে দিন: ডিসি জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নিজে দক্ষ হবেন, অন্যদেরও দক্ষ করে তুলবেন—চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নারীদের প্রতি এমন আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শুধু প্রশিক্ষণ নিলেই হবে না, সেই অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অন্যদের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে। কারণ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ মানুষ, আর দক্ষ মানুষই পারে পরিবার ও সমাজের পরিবর্তন আনতে।

রোববার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে ‘জীবিকায়নের জন্য মহিলাদের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জেলা প্রশাসক।

মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে। মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণও দেওয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই—মানুষকে দক্ষ ও যোগ্য করে গড়ে তোলা।

জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার প্রশিক্ষণ ও উপকরণ দিতে পারে, কিন্তু সফল হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ব্যক্তিগত চেষ্টা ও আন্তরিকতা। সমাজে যাঁরা আজ প্রতিষ্ঠিত, তাঁদের বেশির ভাগই সংগ্রাম করেই সেখানে পৌঁছেছেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ আপনারা একটি সেলাই মেশিন পেয়েছেন, কিন্তু স্বপ্ন এখানেই থামানো যাবে না। একটি মেশিন কীভাবে ১০টি মেশিনে রূপ নিতে পারে, সেই স্বপ্ন দেখতে হবে।’

নারীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের এই দুটি হাত শুধু নিজের জন্য নয়। আপনারা প্রমাণ করবেন, উন্নয়নের পথে নারীরাও বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।’

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কর্মহীনতার প্রভাব নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলে মানুষের কর্মক্ষমতা ও চিন্তার শক্তি কমে যায়। তাই নিজেকে ব্যস্ত ও দক্ষ রাখার বিকল্প নেই। যারা আজ প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হবেন, তাঁরাই একদিন অন্যদেরও পথ দেখাবেন।

কারাগার পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি কারাবন্দিদের সেলাই মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর দ্রুত দুটি নতুন মেশিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারাগারে থাকা ব্যক্তিদেরও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা নতুন জীবন শুরু করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের সিনিয়র জেলা সুপার মো. ইকবাল হোসেন কারাবন্দিদের জন্য দুটি সেলাই মেশিন গ্রহণ করেন।

বেতন-ভাতা বাড়ছে সরকারি চাকরিজীবীদের

আগামী জুলাই থেকে ধাপে ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। বিষয়টির সঙ্গে অবগত কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। একাধিক সূত্র বলেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেট বিষয়ে আগামী বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ নির্দেশনা দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আমরা জুলাই থেকে নতুন কাঠামোতে বেতন পাব, এতে কোনো সংশয় নেই। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার গত বছর জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে, যারা গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা গ্রেডভেদে ১০০ শতাংশ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।সুপারিশকৃত বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপে ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

টাকা ছাপানোর অভিযোগ ‘গালগল্প’ : অর্থ উপদেষ্টা

সরকার টাকা ছাপাচ্ছে এমন প্রচারকে ‘গালগল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, ‘টাকা ছাপানোর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকার এখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি। রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বিগত সময়ে ঘর, ব্যবসা ও সরকার সব জায়গাতেই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছে। সে সময় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কোনো খাতকে ‘সিন্ডিকেটের কাছে ইজারা’ দিতে চায় না; বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়।” তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল ঋণ নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।’

পাবনায় প্রস্তুত চাহিদার দ্বিগুণ কোরবানির পশু

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পাবনার খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন গবাদিপশু পালনকারীরা। পশুর খাবার, পরিচর্যা ও গোসল করানো নিয়ে দিনরাত ব্যস্ত থাকলেও বাড়তি উৎপাদন খরচ ও বাজার অনিশ্চয়তায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। খামারিদের অভিযোগ, গোখাদ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় পশু পালনের খরচ অনেক বেড়েছে। এর সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশের আশঙ্কাও তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ফলে জেলায় চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কোরবানির পশু প্রস্তুত থাকলেও লাভ নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। তাদের দাবি, প্রতি মণ গরুর দাম কমপক্ষে ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকা না হলে অধিকাংশ খামারি লোকসানের মুখে পড়বেন। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পাবনায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি। এর বিপরীতে জেলার ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫টি গরু এবং ৩ লাখ ৭৯ হাজার ১৭৭টি ছাগল। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। খামার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি ও সংকর—দুই ধরনের গরুই প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে দানাদার খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন খামারিরা। বেড়া উপজেলার চাকলা গ্রামের খামারি লালচাঁদ মোল্লা জানান, গত এক বছরে পশুখাদ্যের দাম ব্যাপক বেড়েছে। গমের ভূসি, মসুর, অ্যাংকর, ধানের কুঁড়াসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যের দাম বেড়েছে কয়েকশ টাকা। শুকনো খড়ের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। তিনি বলেন, বর্তমানে একটি গরুর প্রতি মণে উৎপাদন খরচ প্রায় ২৮ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। শ্রমিক দিয়ে খামার পরিচালনা করলে ব্যয় আরও বেড়ে যায়। তাই দেশি গরুর ক্ষেত্রে প্রতি মণে অন্তত ৩৩ থেকে ৩৪ হাজার টাকা এবং সংকর জাতের গরুর জন্য ৩২ হাজার টাকা দাম না পেলে লাভ করা কঠিন হবে। বাজার পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, গত এক সপ্তাহেই বড় গরুর দাম ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে। এর মধ্যে বিদেশি গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় খামারিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছেন পাবনা সদর উপজেলার হামিদ ক্যাটল ফার্মের পরিচালক সিফাত রহমান। তিনি জানান, তার খামারে এবার ১৮টি গরু প্রস্তুত রয়েছে। নিজস্ব ফিড মিল থাকায় কিছুটা খরচ কমলেও সার্বিক ব্যয় সামাল দিয়ে লাভ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অন্যান্য বছরের মতো এবার এখনো ক্রেতা ও পাইকারদের তেমন আনাগোনা নেই। অনেকেই খামারে এলেও দাম বলছেন না, যা বাজার নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। খামারিরা জানান, বড় গরুর ক্ষেত্রে লোকসানের ঝুঁকি আরও বেশি। গত বছর ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কেনা একটি গরুকে এক বছর লালন-পালন করে ২০ মণে উন্নীত করা হলেও এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া যায়নি। এদিকে খাদ্যের বাজার নিয়ে কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বড় বাজারের পাইকারি খাদ্য বিক্রেতা এনামুল হক। তিনি জানান, ভারত থেকে আমদানি স্বাভাবিক হওয়ায় গমের ভূসির দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী হাটগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় প্রতি মণ গরুর দাম ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টাকা হলে খামারিরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি গোখাদ্যের দাম আরও কমলে ভবিষ্যতে গবাদিপশু পালনে খামারিরা বেশি উৎসাহ পাবেন।

ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত, সৈয়দপুর-চিলাহাটি রেলযোগাযোগ বন্ধ

0

নীলফামারীতে রেললাইনের ওপর গাছের ডাল পড়ে খুলনাগামী খুলনা মেইল (রকেট) এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ায় সৈয়দপুর-চিলাহাটি রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার (১৭ মে) সকাল ৮টার দিকে খয়রাতনগর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পার্বতীপুর থেকে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সকালে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী খুলনা মেইল ট্রেনটি নীলফামারী স্টেশনে যাত্রাবিরতির পর খয়রাতনগর এলাকায় পৌঁছালে রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছের ডালের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পর সৈয়দপুর-চিলাহাটি রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর প্রভাবে খুলনাগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেসের চিলাহাটি, ডোমার ও নীলফামারী স্টেশনের যাত্রা বাতিল করা হয়। পরে ট্রেনটি সৈয়দপুর স্টেশন থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন অফিসার মিঠুন রায় জানান, পার্বতীপুর থেকে আসা রিলিফ ট্রেন উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিকেলের মধ্যেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ভিসা ফি নির্ধারণ মিশরের

0

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ফি ঘোষণা করেছে মিশর সরকার। সিঙ্গেল এন্ট্রি, মাল্টিপল এন্ট্রি এবং পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসার ক্ষেত্রে নতুন ফি কার্যকর করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) ঢাকাস্থ মিশর দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের জন্য সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসার নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ২০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার জন্য পরিশোধ করতে হবে ১২ হাজার ১৫০ টাকা। এছাড়া পাঁচ বছর মেয়াদি ভিসার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৫ হাজার ২০০ টাকা।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৮০ শতাংশ কমবে, ডিসেম্বরের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ৮০ শতাংশ কমবে, ডিসেম্বরের মধ্যেই দৃশ্যমান পরিবর্তন: প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং চলমান কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত শক্তিশালী কমিটি ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা একযোগে কাজ করছে।

 

১৬ মে শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত ১৯ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্প্রতি তিনি চট্টগ্রামে এসে জলাবদ্ধতা, খাল খনন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় মেয়রের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়, যা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও চান চট্টগ্রামের মানুষ যেন জলাবদ্ধতার কষ্ট থেকে মুক্তি পায়। একেবারে শতভাগ সমাধানের নিশ্চয়তা না দিলেও আমরা দৃঢ়ভাবে কাজ করছি।

 

তিনি জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে বিভিন্ন খাল ও নদীর সংযোগস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। খালের মুখগুলোতে ড্রেজিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম যথাযথভাবে হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

 

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে “অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল” উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, জোয়ার ভাটার প্রভাব এবং অতিবৃষ্টির কারণে বিষয়টি প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। এজন্য বিভিন্ন স্থানে আধুনিক স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পানির চাপ অনুযায়ী গেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলবে ও বন্ধ হবে। এছাড়া খালের পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণ এবং ময়লা আবর্জনা রোধে নেটিং ব্যবস্থাও চালু করা হবে।

 

নগরবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, খালে ময়লা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং সিটি কর্পোরেশন তা সংগ্রহ করবে। সাংবাদিকদেরও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সব সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে। চলমান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নগরবাসী জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টির রেকর্ড ৩৩০ মিলিমিটার পর্যন্ত রয়েছে। এত ভারী বৃষ্টিপাত হলে সাময়িক জলজট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক, তবে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ চলছে। প্রয়োজনে নিচু এলাকাগুলোতে রাস্তা উঁচু করা এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নও করা হবে বলে জানান তিনি।

 

সভায় জলাবদ্ধতা নিরসণে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, শুধু খাল খনন, ড্রেজিং বা রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; নাগরিকদের সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।

 

তিনি বলেন, সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে অনেক খালের আউটলেট সচল থাকলেও খাল-নালায় মানুষের ফেলা আবর্জনা পানি প্রবাহে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানে খাল থেকে তোষক, চেয়ার, টেবিল, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যবর্জ্য পর্যন্ত উদ্ধার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব অপসারণ কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তাই জনগণকে সচেতন করতেই হবে। তিনি আরও বলেন, নির্মাণাধীন ভবনের বালু ও বর্জ্য ড্রেনে ফেলে দেওয়াও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ।

 

এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমকে আরও ইতিবাচক ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার, সিটি কর্পোরেশন, বন্দর, সিডিএ কিংবা অন্যান্য সংস্থার একার পক্ষে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়; নগরবাসী, সুশীল সমাজ ও সাংবাদিকসহ সব অংশীজনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

সভায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ পানি নিষ্কাশনের পথ বন্দর এলাকা হয়ে কর্ণফুলী নদী ও সাগরে গিয়ে মিশেছে। তাই বন্দর এলাকায় পানি চলাচলের পথ সচল রাখা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

 

তিনি বলেন, দিনভর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দায়িত্বাধীন অংশ সচল রাখতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা যেসব এলাকায় কাজ করছেন, তাদের কার্যক্রম সফল করতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ও সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, সরকার ও বিভিন্ন সংস্থা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও জনসচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল ও ড্রেন পরিষ্কারের পরপরই সেখানে আবার বাসাবাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে শুধু পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে না, পানিদূষণও বাড়ছে। দূষিত পানি থেকে রোগবালাই ও মশার উপদ্রব বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

 

কর্ণফুলী নদীকে দেশের অর্থনৈতিক লাইফলাইন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ নদী রক্ষার দায়িত্ব সবার। একই সঙ্গে হালদা নদীর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদও দূষণের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ অবস্থায় জনগণকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সাম্প্রতিক বৈশাখী ঝড় ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর কয়েকটি এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলেও সেটি মূলত চলমান উন্নয়নকাজের কারণে হয়েছিল।

 

তিনি বলেন, ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হিজড়া খাল, জামালখান খাল, রামপুরা খাল ও আজববাহার খালসহ বিভিন্ন খাল প্রশস্ত ও গভীর করার কাজ করছে। এসব খালে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের সময় অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় কয়েকটি স্থানে পানি জমেছিল। তবে বাঁধ খুলে দেওয়ার পর ধীরে ধীরে পানি নেমে যায়।

 

তিনি বলেন, আগে সরু থাকা খালগুলো এখন অনেক প্রশস্ত ও গভীর হয়েছে এবং এ কাজে বহু অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়েছে।

 

মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সরেজমিন পরিস্থিতি পরিদর্শন করে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। এরপর সেনাবাহিনী, সিডিএ, ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও চসিক একসঙ্গে বসে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।

 

তিনি জানান, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বাস্তব অগ্রগতি দেখেছেন এবং চলমান কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামকে “ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ ও স্মার্ট সিটি” হিসেবে গড়ে তুলতে নাগরিকদের দায়িত্ববোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক সচেতনতাও জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, চসিক ইতোমধ্যে স্কুল হেলথ স্কিম চালু করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থী নিজেদের পরিবারেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা একটি টেকসই শহর গড়তে চাই, যেখানে আগামী প্রজন্ম নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ পাবে।

 

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতিকে দেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় ভিন্ন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, বঙ্গোপসাগরের জোয়ার ভাটার প্রভাবের কারণে এখানে পানি নিষ্কাশন একটি জটিল বিষয়। এ বাস্তবতা মাথায় রেখেই স্লুইস গেট নির্মাণ করা হয়েছে।

 

তিনি জানান, গত বছর চট্টগ্রামে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ জলাবদ্ধতা কমানো সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ৫৭টি খাল এবং প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার ড্রেন পরিষ্কারের কাজ চলছে। এর মধ্যে সিডিএ ৩৬টি এবং চসিক ২১টি খালের কাজ করছে। এছাড়া বড় আকারের বাড়াইপাড়া খালের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে আগামী বর্ষা মৌসুমে নগরীর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ জলাবদ্ধতা ও জলজট নিরসন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, নিয়মিত মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে পানি প্রবাহ সচল রাখা হচ্ছে, যাতে খালগুলোর পানি দ্রুত নদীতে নেমে যেতে পারে। জলাবদ্ধতা নিরসনে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম সেটিকে কার্যকরভাবে সহায়তা করবে। এ লক্ষ্যে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, গত বছর যেভাবে কাজ করা হয়েছিল, চলতি বছর তার চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্ষা শুরুর আগেই কীভাবে খালগুলো পরিষ্কার ও সচল রাখা যায় সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা অনুযায়ী আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই জলাবদ্ধতা নিরসনে সবাই যে সম্মিলিত উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষের অংশগ্রহণও অর্থবহ ও কার্যকর হোক।

 

তিনি আরও বলেন, গঠিত সমন্বয় কমিটিতে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদেরও সম্পৃক্ত করা হয়েছে, যাতে সমন্বিতভাবে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে বন্দর এলাকার দায়িত্বপূর্ণ অংশে সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

 

কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো নগরীর অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র। তাই নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে আমাদের যতটুকু দায়িত্ব আছে, আমরা তা পালন করব। প্রয়োজনে দায়িত্বের বাইরেও অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে চলতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে।

 

৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল আলম বলেন, আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে চট্টগ্রাম শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে যে কাজ করা দরকার আমরা করছি এবং করব। ইতোমধ্যে গত বছর আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনে সাফল্য দেখিয়েছি। ইনশাল্লাহ আমরা চট্টগ্রাম শহরকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে পারব। আমাদের সে ধরনের ক্যাপাসিটি এবং প্রচেষ্টা আছে।

 

সভায় আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, ওয়াসা, পুলিশসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থার শীর্ষ কমকর্তাবৃন্দ।