Home Blog Page 9

চট্টগ্রামের কষ্ট দূর করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

চট্টগ্রামের কষ্ট দূর করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি বছরেই শেষ হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, প্রকল্পগুলোর কাজ সম্পন্ন হলে নগরে আর স্থায়ী জলাবদ্ধতা থাকবে না।

 

শনিবার বেলা তিনটার দিকে নগরের শুলকবহর এলাকায় মির্জা খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্ষা শেষ হলে প্রকল্পগুলোর কাজ পূর্ণগতিতে শেষ করা হবে। কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে দীর্ঘস্থায়ী কোনো জলাবদ্ধতা থাকবে না। পানি নিষ্কাশনে আর সমস্যা হবে না। যদিও অতিবৃষ্টির কারণে সাময়িক জলজট হতে পারে।

 

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যরিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান মো. নুরুল করিম এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

 

চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে সিডিএর দুটি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।

 

এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। গত আট বছরে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। সিডিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অতীতে যথাযথ অর্থায়ন না হওয়ায় এখন বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

 

তিনি বলেন, বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারি তহবিলের ওপর চাপ রয়েছে।

 

পাশাপাশি বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া দায়ও মেটাতে হচ্ছে। তারপরও চট্টগ্রামের প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন করে মানুষের কষ্ট দূর করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

 

এসব প্রকল্পে যদি কোনো লুটপাট হয়ে থাকে, তবে তার তদন্ত করা হবে। কারা জড়িত, তাদেরও খুঁজে বের করা হবে।

 

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের কারণে কিছু অসমাপ্ত কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে বর্ষা শেষে দ্রুতগতিতে কাজ শেষ করা হবে।

 

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের ছোট-বড় ১৩০টি খালকে প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে না।

 

কতটুকু বৃষ্টিতে কী পরিমাণ পানি প্রবাহিত হবে এবং কীভাবে সাগরে নিষ্কাশিত হবে, তার পূর্ণ হিসাব-নিকাশ করেই কাজ হচ্ছে।

 

জোয়ার-ভাটা, স্লুইসগেট পরিচালনা ও আউটলেট ব্যবস্থাপনাকেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

 

অতীতে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে সমন্বয়ের অভাব ছিল উল্লেখ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগে সমন্বয় ছিল না।

 

এখন সবাই সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে। সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য চট্টগ্রামের মেয়রের নেতৃত্বে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

 

এ সময় নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, খালকে ডাস্টবিন হিসেবে ব্যবহার করার মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পের পূর্ণ সুফল পাওয়া সম্ভব নয়।

 

উল্লেখ্য, গত ২৮ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও বুকসমান, কোথাও হাঁটুপানিতে অচল হয়ে পড়ে জনজীবন।

 

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ে প্রবর্তক মোড় ও আশপাশের এলাকা। হাসপাতাল, রোগনির্ণয় কেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিপণিবিতানের কারণে এলাকাটি সবসময়ই ব্যস্ত থাকে।

 

পরিদর্শন শেষে অর্থমন্ত্রী, তিন প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়র প্রবর্তক মোড়ের হিজড়া খালসহ নগরের বিভিন্ন খালে চলমান উন্নয়নকাজ ঘুরে দেখেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামসুল আলম এবং প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহসিনুল হক চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

পিআইডি থেকে প্রাপ্ত নিউজ

খাগড়াছড়িতে তৈমাতাই ও পিলাক খাল খননে কাটবে নাব্য সংকট

খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনঃখননের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের নাব্য সংকট, জলাবদ্ধতা ও সেচ সমস্যায় ভোগা এই অঞ্চলের কৃষকরা এখন দেখছেন সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বছরের পর বছর অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুইমারার ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৈমাতাই খাল এবং ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ পিলাক খাল প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছিল। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনও কমে যায়। এতে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে খাল দুটি পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে জলাবদ্ধতা দূর হবে এবং কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরে আসায় বর্ষার পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং শুষ্ক মৌসুমেও কৃষকরা সহজে সেচের পানি পাবেন। স্থানীয়রা মনে করছেন, তৈমাতাই ও পিলাক খাল পুনরুজ্জীবিত হলে শুধু কৃষিই নয়, এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় এই পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্মল নারায়ণ ত্রিপুরা খাল দুটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানান। তিনি বলেন, খাল পুনঃখনন স্থানীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। গুইমারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ জানান, ‘খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায়’ তৈমাতাই ও পিলাক খাল খননে মোট ৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও জানান, খনন কাজ শেষে খালের দুই পাড়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ লাগিয়ে সবুজ বনায়ন গড়ে তোলা হবে। গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল তামান্না বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুর্গম এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে। একই সঙ্গে নতুন কৃষিজমি চাষের আওতায় আসবে এবং কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা দেবে। তিনি আরও জানান, আগামী ২০ মে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে তৈমাতাই ও পিলাক খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গুইমারা উপজেলা প্রশাসন।

দেশে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ৪ হাজার টাকার বেশি

দেশের বাজারে আবারও কমেছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা। শনিবার (১৬ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানায়। নতুন এ দাম সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৩৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৮৯ টাকায়। এর আগে গত ১৫ মে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে সময় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায়। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম মোট ৬৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছে এবং ৩০ বার কমেছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দামে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪ বার দাম বৃদ্ধি পায় এবং ২৯ বার কমানো হয়। স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও কমিয়েছে বাজুস। ভরিতে ১১৭ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৬৫৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপা বিক্রি হবে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকায়, ১৮ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৬০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৪১ টাকা। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ৩৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ বার বেড়েছে এবং ১৮ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম পরিবর্তন হয়েছিল মোট ১৩ বার; যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল এবং ৩ বার কমেছিল।

প্যারাগন ফিডের বর্জ্যে বিপর্যস্ত জনজীবন, ক্ষতিগ্রস্ত ধান-মাছ-গবাদিপশু

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় প্যারাগন ফিড লিমিটেডের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিষাক্ত বর্জ্যে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমির ধান, মারা যাচ্ছে মাছ ও গবাদিপশু। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার প্রায় ১২৪ কৃষকের প্রায় ১০০ একর জমির ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ। এছাড়া সরু সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে প্যারাগনের পণ্যবাহী গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে মধ্যমকুড়া গ্রামে ২০২২ সালে ২৮ একর জমির ওপর ‘প্যারাগন ফিড লিমিটেড এগ্রো কমপ্লেক্স’ গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২১ লাখ ডিম উৎপাদনকারী মুরগি রয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ১৩ লাখ ডিম উৎপাদন হয়। মুরগির বিষ্ঠা থেকে কম্পোস্ট সারও তৈরি করা হয়। তবে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রাম মারাত্মক পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে বিন্নিবাড়ি, হাতিবান্দা, শালমারা, ঘাইলারা, কাকরকান্দি, পলাশিয়া, কাউলারা, রসাইতলা, বেনুপাড়া ও সোহাগপুর। এসব এলাকায় কয়েকটি স্কুল-কলেজসহ গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোম্পানির তরল ও কঠিন বর্জ্য সরাসরি আশপাশের কৃষিজমিতে গিয়ে মিশছে। এতে ধান লালচে হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে দূষিত পানিতে মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং সেই পানি পান করে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে বাতাসের সঙ্গে তা ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শিশু, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া গ্রামের সরু পাকা রাস্তা দিয়ে প্যারাগনের ভারী ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান চলাচলের ফলে রাস্তার ক্ষতি হচ্ছে এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন, শফিকুল, আবুতালেব, জয়নাল ও শহর আলীসহ কয়েকজন জানান, শুরুতে প্যারাগন কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত তার বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে এলাকাবাসী বিক্ষোভে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তারা জানান, ক্ষতিপূরণ ও কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। পরে গভীর রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নিয়ামুল কাউসার বলেন, বিষাক্ত বর্জ্যের কারণে কৃষকদের আবাদি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে পূর্বে চুক্তি হলেও এখন আর কোম্পানির পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। শেরপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হেদায়েতুল ইসলাম জানান, প্যারাগন কর্তৃপক্ষ বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট সার তৈরির প্ল্যান্ট স্থাপনের অনুমোদন নিয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইতোমধ্যে যে পরিবেশগত ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্যারাগন ফিড লিমিটেডের এজিএম আনোয়ারুল কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানে একটি ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) রয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও ইটিপি যুক্ত করে দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও আলোচনা চলছে। নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগের পর প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত শুরু করেছে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবেশ দূষণের বিষয়গুলো যাচাই করে আগামী রোববারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন। শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন মেয়ে ও একমি গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও, পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি। তবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় পরে ওই আসনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে দলীয় প্রার্থী করা হয়। ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার পৈতৃক বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি পরিচিত দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। তার বাবা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ এবং একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। মা ছিলেন নূরজাহান সিনহা। শৈশবের একটি অংশ কলকাতায় কাটানোর পর তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৭৫ সালে পিতার মৃত্যুর পর একমি গ্রুপে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে পরবর্তীতে দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন ২০২০ সাল পর্যন্ত। বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান বাদলকে এবং ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে পরাজিত করেন তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। তার মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস আজ

0

আজ শনিবার (১৬ মে) ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস। ১৯৭৬ সালের এই দিনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির অধিকার আদায়ের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্মরণীয় ফারাক্কা লংমার্চ। সেদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে জড়ো হন। পরে সেখান থেকে বিশাল লংমার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গিয়ে সমাপ্ত হয়। নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে এটিকে দেশের অন্যতম বড় গণআন্দোলন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তৎকালীন সময়ে গঙ্গার পানির ন্যায্য অংশ না পাওয়ায় দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের হুমকির মুখে পড়ে। বহু বছর পেরিয়ে গেলেও সেই সংকট পুরোপুরি কাটেনি বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফারাক্কার পানি বণ্টন নিয়ে ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এরপরও প্রত্যাশিত পরিমাণ পানি না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ভারতের মনোহরপুর এলাকায় ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এর ফলে গঙ্গার পানির প্রবাহ অন্যদিকে মোড় নেওয়ায় পদ্মা নদীতে পানির পরিমাণ কমে যায়। এর প্রভাব হিসেবে বছরের অধিকাংশ সময় পদ্মা নদী নাব্য সংকটে ভুগছে।

উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের বিবৃতি ও নিন্দা 

উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের বিবৃতি ও নিন্দা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাবের সদস্য এবং স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল এস-এর উখিয়া প্রতিনিধি মুজিবুর রহমানকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব।

 

বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্রিল্যান্সার পরিচয়ে অনলাইন প্রতারণা, মাদক ও নারী পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম সৈকত ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে সাংবাদিক মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তার এ ধরনের বক্তব্য শুধু একজন পেশাদার সাংবাদিকের সম্মানহানিই নয়; বরং স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের মর্যাদার ওপরও আঘাত হানে।

 

উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব মনে করে, মুজিবুর রহমান একজন দায়িত্বশীল, সৎ ও পেশাদার সাংবাদিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও অসত্য।

 

প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ ধরনের মানহানিকর অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেন। একইসঙ্গে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

উখিয়া অনলাইন প্রেসক্লাব সবসময় সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এবং সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

চন্দনাইশে এলডিপি ছাড়লেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী, বিএনপিতে যোগদান।

0

চন্দনাইশে এলডিপি ছাড়লেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী, বিএনপিতে যোগদান।‎

চন্দনাইশ প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে এলডিপি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন সহস্রাধিক নেতাকর্মী। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে উপজেলার মক্কা পেট্রল পাম্প সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত এক যোগদান অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জসিম উদ্দিন আহমেদের হাতে তারা বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা এলডিপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, চন্দনাইশ পৌর এলডিপির সাধারণ সম্পাদক আখতার আলম, পৌর গণতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইউছুপ, উপজেলা গণতান্ত্রিক যুবদলের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, পৌরসভা কৃষক দলের সদস্য সচিব এনামুল হকসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সওদাগরের সভাপতিত্বে এবং জেলা যুবদলের সহসভাপতি সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব এম এ হাশেম রাজু, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদুর রহমান, চন্দনাইশ পৌর যুবদল আহ্বায়ক আজম খান, সচিব শহিদুল ইসলাম, দোহাজারী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইফতিয়ার উদ্দিন সুমন, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সচিব মো. মাহফুজ প্রমুখ।

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে — ডা. শাহাদাত হোসেন

খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে — ডা. শাহাদাত হোসেন

চন্দনাইশ ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত “ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬ (সিজন-১)” এর ফাইনাল ম্যাচ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজ মাঠ, চন্দনাইশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র বলেন, বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের তরুণ সমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে সরকার বিভিন্ন পর্যায়ে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করছে এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম মাধ্যম।”

 

মেয়র আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মেধাবী খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে সরকার “নতুন কুঁড়ি” ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করেছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশজুড়ে তরুণ প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

তিনি তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে এ ধরনের সামাজিক ও ক্রীড়ামূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চন্দনাইশ ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও যমুনা টিভি চট্টগ্রামের ব্যুরো চিফ জনাব জামশেদুর রহমান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ক্রীড়া সংগঠক, সমাজসেবক ও বিপুল সংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানারআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদের মানবিকতায় জেলে পরিবারে ফিরল হাসি।

চট্টগ্রামের ডিসি জাহিদের মানবিকতায় জেলে পরিবারে ফিরল হাসি

সাবহেড: রাত ১০:৩৪-এ ডিসির ফোনকলে হামে আক্রান্ত শিশু জয়া দাসের মুক্তি,সকালে হাসপাতালে গিয়ে বিদায় দিলেন

ঘড়ির কাটায় তখন বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৪ মিনিট। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সরকারি বাসভবনের একটি কক্ষে বসে দাপ্তরিক ফাইলপত্রে স্বাক্ষর করছিলেন। ব্যস্ত প্রশাসনিক দিনের শেষে কাজ তখনও শেষ হয়নি। ফাইলের পর ফাইল, সিদ্ধান্তের পর সিদ্ধান্ত। এরই ফাঁকে মোবাইল ফোনে চোখ বুলাচ্ছিলেন বিভিন্ন সংবাদে।

হঠাৎ একটি শিরোনামে তার আঙুল থেমে যায়—“আমরা গরিব মানুষ, ৮০ হাজার দিয়েছি, তবু হাসপাতাল থেকে মেয়েকে ছাড়ছে না।”

একটি শিরোনাম। কয়েকটি বাক্য। কিন্তু সেই কয়েক লাইনের মধ্যে লুকিয়ে ছিল এক বাবার অসহায়ত্ব, এক মায়ের কান্না, আর মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা পাঁচ মাস বয়সী একটি শিশুর গল্প। শিশুটির নাম জয়া দাস।

চার ছেলের পর জন্ম নেওয়া পরিবারের একমাত্র মেয়েসন্তান। জেলেপল্লীর এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া জয়া হামে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালের আইসিইউ ও কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিল।

শিশুটির বাবা সুমন জলদাসের ভাষায়, মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি নিজের সব সঞ্চয় শেষ করেছেন। স্ত্রীর গয়নাও বিক্রি করেছেন। আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে ৮০ হাজার টাকা জোগাড় করতে পেরেছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা ব্যয় গিয়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৩০২ টাকায়। বাকি টাকা পরিশোধের সামর্থ্য ছিল না।

অন্যদিকে হাসপাতালের কক্ষের ভেতরে তখন এক মায়ের নির্ঘুম অপেক্ষা। চার ছেলের পর পাওয়া মেয়েকে বুকে জড়িয়ে তিনি শুধু তাকিয়ে ছিলেন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে।খবরটি হয়তো অনেকের চোখ এড়িয়ে যেতে পারত। কিন্তু সেদিন সেটি এড়িয়ে যায়নি।

সারা দেশে মানবিক প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে সেটি কেবল একটি হাসপাতালের বিলের গল্প ছিল না। এটি হয়ে উঠেছিল একজন অসহায় মা, একটি শিশু এবং মানবিক দায়িত্বের প্রশ্ন।

রাতেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন। এরপর নিজেই যোগাযোগ করেন জেলা সিভিল সার্জন ও এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালের চেয়ারম্যান লায়ন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আলীর সঙ্গে।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আজ যদি আমার নিজের পরিবারের কোনো অসুস্থ শিশু চিকিৎসা শেষে শুধু অর্থের অভাবে আটকে যায়, তাহলে কেমন লাগত আমার?”

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রয়োজনে বকেয়া বিল জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিশোধের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক অবস্থান নেন।ফোনের ওপাশ থেকে আসে তাৎক্ষণিক উত্তর।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী বলেন,”স্যার, আপনি বলেছেন—এটাই যথেষ্ট। বিল কোনো বিষয় নয়। আপনি সকালে হাসপাতালে আসুন, শিশুটিকে দেখেও যান। আমরাও মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।” এরপর যেন গল্পের মোড় বদলে যায়।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রামের জিইসি এলাকার এশিয়ান স্পেশালাইজড হাসপাতালে পৌঁছান জেলা প্রশাসক।

তার সঙ্গে ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। উপস্থিত ছিলেন হাসপাতাল চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়।

হাসপাতালের কক্ষে ঢুকেই ছোট্ট জয়াকে দেখে তার প্রথম প্রশ্ন—”সকালে কী খেয়েছে জয়া? এখন ভালো আছ তো?” সেখানে তখন সরকারি প্রোটোকলের দৃশ্য ছিল না। ছিল না কঠোর প্রশাসনিক পরিবেশ। ছিল একজন প্রশাসকের নয়, একজন অভিভাবকের উপস্থিতি।

পরে জেলা প্রশাসকের অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বকেয়া ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩০২ টাকা মওকুফের সিদ্ধান্ত নেয়।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলী বলেন,”জেলা প্রশাসকের আন্তরিকতায় একটি অসহায় পরিবার বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছে।”

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন,”রাত ১টা–২টাতেও জেলা প্রশাসক বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটে যান। কোনো রোগী আর্থিক সংকটে পড়লে তিনি খবর নেন, কথা বলেন, সহযোগিতা নিশ্চিতের চেষ্টা করেন। তিনি শুধু এখানে নন, প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নেন।” ‘মেয়ের জন্য জেলেও যেতে রাজি ছিলাম’

শুক্রবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জয়ার বাবা সুমন জলদাস বলেন,”আমি কখনো ভাবিনি ডিসি স্যার এসে আমার মেয়ের সব বিল এভাবে মওকুফ করে দেবেন। স্যার যদি সহযোগিতা না করতেন, তাহলে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হতো, মাইকিং করতে হতো।”

তিনি বলেন,”আমি হাসপাতালকে বলেছিলাম—আমি ৮০ হাজার টাকা দিয়েছি, এর বেশি পারব না। আমার মেয়েটাকে আমাকে দিয়ে দেন। মেয়ের জন্য জেলেও যেতে রাজি ছিলাম।”

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “জীবনে এমন ডিসি কখনো দেখিনি। এটা আমার মেয়ের ভাগ্য। আমি মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে আবার ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে আসব।” হাসপাতালের একটি দৃশ্য সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় উপস্থিতদের।

চার ছেলের পর পাওয়া একমাত্র মেয়েকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন মা রীতা দাস। কয়েকদিন আগেও যে চোখে ছিল আতঙ্ক, সেখানে আজ স্বস্তির জল।

শিশুটিকে মায়ের কোলে তুলে দিয়ে জেলা প্রশাসক শুধু বললেন—”বাচ্চার জন্য ভালো খাবার কিনবেন, দুধ কিনবেন। পুষ্টিকর খাবার খাওয়াবেন।”

এরপর আর কোনো প্রশাসনিক ভাষণ ছিল না। ছিল এক মায়ের চোখে আনন্দাশ্রু, আর একজন মানবিক জেলা প্রশাসকের মুখে তৃপ্তির হাসি।

চট্টগ্রামে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে অনেকে জেলা প্রশাসক হিসেবে চেনেন।

কিন্তু জয়া দাসের পরিবারের কাছে তিনি হয়তো অন্য কেউ—একজন প্রশাসক নন, একজন অভিভাবক।

আর হয়তো এখানেই প্রশাসন আর মানবিকতার সবচেয়ে বড় মিলন ঘটে।