
মুরাদ হোসেন বিপ্লব, চট্টগ্রাম:
আধুনিক জীবনযাত্রায় কাজ ও বিনোদনের তাগিদে মানুষ রাত জাগতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এই ঘুমহীনতাই নীরব ঘাতক হয়ে শরীর ও মনকে অসুস্থ করে তুলছে। প্রতিদিন সঠিক পরিমাণে ঘুম না হলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে বাসা বাঁধে নানা জটিল রোগ। কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই।
কার কতটুকু ঘুম প্রয়োজন?
বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের ঘুমের চাহিদাতেও পরিবর্তন আসে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সুপারিশকৃত সময়সূচি:
নবজাতক (০–৩ মাস): ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা
শিশু (১–২ বছর): ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টা
স্কুলগামী শিশু (৬–১৩ বছর): ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা
কিশোর-কিশোরী (১৪–১৭ বছর): ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা
প্রাপ্তবয়স্ক (১৮–৬৪ বছর): ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা
বয়স্ক (৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে): ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা
ঘুম যেভাবে আমাদের শরীরকে নতুন প্রাণ দেয়
দিক প্রভাব ও কার্যকারিতা
হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা সঠিক সময় ঘুমালে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, যা হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঘুমের সময় শরীর অ্যান্টিবডি তৈরি করে, যা বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে।
মস্তিষ্কের দক্ষতা ও মেধা পর্যাপ্ত ঘুম মেধা বিকাশ ঘটায়, মনোযোগ বাড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা উন্নত করে।
মানসিক ভারসাম্য নিয়মিত ঘুম বিষণ্নতা, দুশ্চিন্তা ও মেজাজ খিটখিটে হওয়া থেকে মুক্তি দেয়। ওজন ও মেটাবলিজম শরীর ঘুমানোর সময় হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, যা অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি রোধ করে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত জাগার অভ্যাস ত্যাগ করে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর নিয়ম মেনে চলা উচিত। ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্ক্রিন (মোবাইল বা টিভি) থেকে দূরে থাকা একটি গভীর ও স্বাস্থ্যকর ঘুমের পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে।

