Blog

  • রাঙ্গুনিয়ায় কিশোরীকে জঙ্গলে নিয়ে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ।

    রাঙ্গুনিয়ায় কিশোরীকে জঙ্গলে নিয়ে গণধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ।

    রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি:

     

    চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নে এক কিশোরীকে (১৫) মুখ চেপে ধরে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোহমর্ষক ঘটনা ঘটেছে। পাশবিক এই নির্যাতনের সময় অপরাধীরা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি মো. বাদশা মিয়াকে (৩৬) পুলিশ গ্রেফতার করেছে। দুর্গম পাহাড়ি এই এলাকায় সংঘটিত অপরাধের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার মুখে সময়মতো পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আসামিকে থানা হেফাজতে নেয়।

     

     

    গত শনিবার (৩০ মে) ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এর আগেরদিন শুক্রবার স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা বাদশাকে ধরে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরেরদিন শনিবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে। তার বিরুদ্ধে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

     

     

    মামলার অন্য আসামিরা হলেন- চন্দ্রঘোনা থানার ধলিয়া মুসলিমপাড়ার মো. ছাবেরের ছেলে মো. সাইফুল (২৭) এবং রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর মুকতুল্লা টিলার মো. জালালের ছেলে মো. মাহাবুব ওরফে মালু (৩০)। আর গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়া পদুয়া ইউনিয়নের জয়নগর মাতব্বর টিলার মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে।

     

     

    মামলার এজহার ও স্থানীয় বিবরণ থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা পেশায় একজন কৃষক। গত ২৪ মে সকালে তাঁদের তিনটি ছাগল স্থানীয় নুরুল কবির হুজুরের বাড়ির সামনের মাঠে ঘাস খাওয়ার জন্য রেখে আসা হয়। প্রতিদিনের মতো ছাগলগুলো সন্ধ্যায় বাড়ি না ফেরায় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কিশোরী মাঠে সেগুলোকে খুঁজতে যায়।

     

     

    অভিযোগে বলা হয়, মাঠে কিশোরীকে একা পেয়ে আসামি বাদশা মিয়া হঠাৎ তার মুখ চেপে ধরে পাশের নির্জন জঙ্গলের ভেতর টেনে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কল করে অপর দুই সহযোগী সাইফুল ও মাহাবুবকে ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। সেখানে আসামিরা ভীতি প্রদর্শন করে কিশোরীকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।

     

     

    নির্যাতনের শিকার কিশোরীর বরাত দিয়ে তাঁর স্বজনরা জানায়, পাশবিক এই নির্যাতনের সময় আসামিরা মোবাইল ফোনের ক্যামেরা দিয়ে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। অবর্ণনীয় এই নির্যাতনের মুখে কিশোরী আসামিদের হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করে আকুতি জানিয়ে বলেছিল, “আংকেল, আমার সাথে এসব না করে আমাকে বরং বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেন।” কিন্তু পাথরহৃদয় অপরাধীদের মন তাতে গলেনি। উল্টো পাশবিক নির্যাতন শেষে এই ঘটনা কাউকে জানালে ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তারা পালিয়ে যায়। লোকলজ্জা ও চরম ভিডিও ফাঁসের ভীতির কারণে শুরুতে বিষয়টি প্রকাশ না করলেও, পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৯ মে পরিবারের কাছে কিশোরী ঘটনাটি খুলে বলে। এসময় তাকে ঔষধের একটি পাতা দিয়ে এগুলো খাওয়ার জন্যেও বলে বলে জানান তারা।

     

     

    রবিবার (৩১ মে) সকালে সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, মূল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পদুয়া রাজারহাট বাজার। সেখান থেকে আরও ৫ কিলোমিটারের অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়ি পথ পেরিয়ে রাঙ্গুনিয়া ও পার্বত্য বান্দরবান সীমান্ত এলাকায় ঘটনাস্থলটির অবস্থান।,

     

     

    জয়নগর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, এই দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি চিহ্নিত চক্র এলাকাটিকে মাদক, দস্যুতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছে। এমনকি পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের সাথেও এই চক্রের নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাস্থলে এখনও আসামিদের মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ঝোপের ভেতর পাতা বিছানো স্পট দৃশ্যমান রয়েছে।

     

     

    মো. হারুন জানান, “এই চক্রের ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ তটস্থ থাকে। ধর্ষণের ঘটনার পর তারা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান আসামি বাদশা মিয়াকে ধরে ফেললে, তার বাহিনীর সদস্যরা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পুলিশ সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়ায় অপরাধীরা পালিয়ে যায় এবং পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।”

     

     

    অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার ঠিক তিন দিন আগে, একই এলাকায় একটি দুর্ধর্ষ দস্যুতার ঘটনা ঘটে। পার্শ্ববর্তী জয়নগর চক এলাকার প্রবাসী আক্তার হোসেনের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, সন্ধ্যায় ৪ জন মুখবঁধা যুবক দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে এবং তার সন্তানদের হাত-মুখ বেঁধে ফেল রাখে। এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করে। দস্যু দলটি ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। জেসমিন আক্তারের প্রবল সন্দেহ, গ্রেফতারকৃত বাদশা মিয়াই এই দস্যুতার মূলহোতা এবং এই ঘটনায় তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

     

     

    দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “ভুক্তভোগীর পিতার লিখিত এজহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে। ধর্ষণের সময় ভিডিও ধারণের বিষয়টিও তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এজহারনামীয় বাকি দুই আসামিসহ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে পাহাড়ি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর যথাযথ চিকিৎসাসেবা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

  • বিপণিবিতানে ক্রেতা কম, ফুটপাতেই বেশি ভিড়

    বিপণিবিতানে ক্রেতা কম, ফুটপাতেই বেশি ভিড়

    কোরবানির ঈদ সামনে হলেও রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে এখনো জমে ওঠেনি প্রত্যাশিত ঈদবাজার। পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, অলংকারসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। অধিকাংশ সময় অলস বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে বিক্রয়কর্মীদের। একই চিত্র পাইকারি বাজারেও। তবে ফুটপাতের ভাসমান দোকানগুলোতে তুলনামূলক বেশি ভিড় দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত শুক্র ও শনিবার কিছুটা ভালো বিক্রি হলেও সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে বেচাকেনা আশানুরূপ হয়নি। ঈদকে ঘিরে বাড়তি বিনিয়োগ করেও কাঙ্ক্ষিত ব্যবসা না হওয়ায় হতাশ তারা। তারপরও যে পরিমাণ বিক্রি হয়েছে, সেটিকেই ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে দেখছেন অনেকে। রাজধানীর গুলিস্তানের অন্যতম পাইকারি মার্কেট ঢাকা ট্রেড সেন্টারেও এবার ঈদের আমেজ অনেকটাই ফিকে। সাধারণত ঈদের এক মাস আগে থেকেই এখানে বাড়তি ব্যস্ততা দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র নেই। ব্যবসায়ীদের দাবি, ঢাকার বাইরে থেকে অর্ডার কমে যাওয়ায় দুই বছর ধরেই বাণিজ্যে ভাটা চলছে। কমফোর্ট জোনের ব্যবসায়ী মো. দুলাল হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে ঋণ করে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করেছিলেন। ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার গেঞ্জি ও শার্ট বিক্রির লক্ষ্য থাকলেও এখন পর্যন্ত ৩ লাখ টাকার বিক্রিও হয়নি। আগে ভালো মৌসুমে দিনে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকার বিক্রি হলেও এবার ২০ হাজার টাকাও হচ্ছে না। তার মতে, মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষ এখন পোশাকে আগের মতো খরচ করতে পারছে না। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বুসরা ফ্যাশনের ব্যবসায়ী মো. বিল্লাল হোসেন। তিনি বলেন, এপ্রিল থেকেই বিভিন্ন জেলা থেকে অর্ডার পাওয়ার কথা থাকলেও এবার মে মাসের শেষ দিকে এসে সীমিত পরিসরে বিক্রি শুরু হয়েছে। কাপড়ের দাম বাড়ায় পণ্যের মূল্যও বেড়েছে, অন্যদিকে মানুষের কেনাকাটার সক্ষমতা কমেছে। পাইকারি ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রায় সব ধরনের পোশাকের দাম পিসপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গেঞ্জি ১৮০ থেকে ৫০০ টাকা, শার্ট ২৫০ থেকে ১ হাজার টাকা, জিন্স ও গ্যাবার্ডিন প্যান্ট ৪০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং শিশুদের পোশাক ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারেও একই অবস্থা। নিউমার্কেট এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মার্কেটগুলোতে তেমন ভিড় নেই। যারা আসছেন, তাদের বেশিরভাগই পোশাক ও জুতার দোকানে সীমিত কেনাকাটা করছেন। শিলং ম্যাচিং সেন্টারের ব্যবসায়ী মো. হিরণ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ব্যবসা অর্ধেকেরও নিচে নেমে গেছে। আগে এ সময়ে দিনে ৭০-৮০ হাজার টাকার বিক্রি হলেও এখন ২০ হাজার টাকাও হচ্ছে না। ব্যবসা এখন মূলত শুক্রবারনির্ভর হয়ে পড়েছে। শোয়াইব ফেব্রিক্সের ব্যবসায়ী মো. আজিম মাতবর বলেন, ঈদের আগে সাধারণত শার্ট-প্যান্ট তৈরির অর্ডারে ব্যস্ত সময় কাটানোর কথা থাকলেও এবার বাজার একেবারেই স্বাভাবিক সময়ের মতো চলছে। তবে ফুটপাতের দোকানগুলোতে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। তুলনামূলক কম দামে পণ্য পাওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি সেখানে। নিউমার্কেট ওভারব্রিজের পাশে পোশাক বিক্রেতা মো. জহির হোসাইন জানান, শুক্রবার ২০ হাজার ও শনিবার ৮ হাজার টাকার বিক্রি হলেও পরে তা আবার কমে যায়। বর্তমানে দৈনিক ৫ হাজার টাকার বিক্রিও হচ্ছে না। টি-শার্ট বিক্রেতা মো. সামির মোহাম্মদ বলেন, এবার ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে জার্সির বাজার বেশি জমে উঠেছে। ফলে টি-শার্টের বিক্রি কমে গেছে। পাশের দোকানি মো. ইমাম হাসান জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে টি-শার্টের পাশাপাশি জার্সিও তুলেছেন, আর এখন জার্সির চাহিদাই বেশি। জুতার ব্যবসায়ী মো. সজিব কাজী বলেন, ঈদের বাজার এবার অনেকটাই মন্দা। তবে গত শুক্র ও শনিবার কিছুটা ভালো বিক্রি হয়েছে। অন্য দিনগুলোতে গড়ে ১২ থেকে ১৫ জোড়া জুতা বিক্রি হচ্ছে। বায়তুল মোকাররম এলাকায় টুপি ও আতর বিক্রেতা মো. হাফিজ উদ দৌলা বলেন, ঈদে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে অনেকে আতর, টুপি, জায়নামাজ কিনে নেন। তবে এবার কম দামের পণ্যের প্রতিই ক্রেতাদের ঝোঁক বেশি থাকায় লাভ কমে গেছে। এদিকে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি আশা করছে, মূল্যস্ফীতির চাপ থাকলেও এবারের ঈদে সারা দেশে পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও ফ্যাশন খাতে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে। সমিতির সভাপতি মো. নাজমুল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশের মোট ঈদ বাণিজ্যের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ঢাকাকেন্দ্রিক। তাদের ধারণা, এবারের কোরবানির ঈদে রাজধানীতে পোশাক ও ফ্যাশন খাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং খাদ্য, মসলা, সুপারশপ ও রেস্টুরেন্ট খাতে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হতে পারে। এছাড়া পরিবহন, কুরিয়ার, ই-কমার্স ও অন্যান্য সেবা খাতেও বড় অঙ্কের লেনদেনের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সব থেকে স্বাধীন : আইনমন্ত্রী

    বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সব থেকে স্বাধীন : আইনমন্ত্রী

    বাংলাদেশের বিচার বিভাগ সব থেকে স্বাধীন বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচার বিভাগ যতটা স্বাধীন তা অন্য কোথাও কমই উপভোগ করে। তা না হলে মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ এত হেরে যেত না।’ দেশে ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জজ ও আইনজীবীর সংখ্যা কম হওয়ার কারণে দেশে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা হচ্ছে। রামিসা হত্যা মামলার যেন ন্যায় বিচার নিশ্চিত হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

  • টিসিবির চাল ও ফ্যামিলি কার্ডসহ জনতার হাতে জামায়াত নেতা আটক

    টিসিবির চাল ও ফ্যামিলি কার্ডসহ জনতার হাতে জামায়াত নেতা আটক

    পটুয়াখালীর বাউফলে ২৪টি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড ও প্রায় ২৪০ কেজি টিসিবির চাল ঘরে তোলার সময় জামায়াতে ইসলামীর এক ইউনিয়ন নেতাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে উদ্ধার হওয়া চাল ও কার্ড স্থানীয় গ্রাম পুলিশের জিম্মায় দেওয়া হয়। সোমবার (২৫ মে) রাত ১০টায় উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জামায়াত নেতা সাকিল শিকদার কেশবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর বায়তুলমাল সম্পাদক। স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ, হাসান বয়াতি, জাহাঙ্গীর বয়াতি, দোকানদার মামুন জানান, মমিনপুর বাজার এলাকায় নিজ বাসভবনে কয়েকটি বস্তাভর্তি চাল তোলার সময় তাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা গিয়ে প্রায় ২৪০ কেজি চাল এবং ২৪ জন টিসিবি সুবিধাভোগীর স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড উদ্ধার করেন। এ সময় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বিষয়টি গ্রাম পুলিশকে জানানো হয়। পরে উদ্ধার করা চাল ও কার্ড ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশ সদস্য হাসানের জিম্মায় দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিসিবির পণ্য সাধারণত দিনের বেলায় বিতরণ করা হয়। সেখানে রাতে কীভাবে এসব চাল একত্রে আনা হলো এবং কেন তা ওই জামায়াত নেতা নিজের বাসায় রাখছিলেন? তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাকিল শিকদার বলেন, এটি স্থানীয় বিএনপির একটি সাজানো নাটক। তার দাবি, ছোট ভাই রাজিব দীর্ঘদিন ধরে টিসিবির সুবিধাভোগীদের পণ্য কিনে দিতে সহায়তা করে আসছেন। বিনিময়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ৩০ টাকা করে পারিশ্রমিক পান তিনি।  তিনি আরও বলেন, সোমবার ২৪ জনের পণ্য আমার ভাই সংগ্রহ করেছে। প্রথম চালানের চাল ঘরে তোলার সময় বিএনপির কিছু কর্মী এসে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করে। রাতে চাল বাসায় রাখার বিষয়ে সাকিল শিকদার বলেন, দিনের বেলায় সুবিধাভোগীরা এসে তাদের পণ্য নিয়ে যাবেন। নিরাপত্তার জন্য রাতের বেলায় সাময়িকভাবে আমার বাসায় রাখা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস বয়াতীর অনুসারীরা জামায়াতের এক কর্মীকে কুপিয়ে আহত করেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হয়েছে। ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি আবু দাউদ দৈনিক কালবেলাকে বলেন, কয়েক দিন আগে গাছ কাটা নিয়ে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঝামেলা হয়েছিল, হয়তো সেই আক্রোশ থেকেই বিএনপির লোকজন এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

     

  • ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে

    ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে

    পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারির পাশাপাশি জরুরি মেরামতে বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বাসসকে জানিয়েছেন, ঈদে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সে আলোকে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পুরো বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হচ্ছে।  ঈদের টানা সাত দিনের সরকারি ছুটিতে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগ বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঈদের সময় সম্ভাব্য বাড়তি চাহিদা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ উৎপাদনে রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, ‘ঈদের সময় অফিস-আদালত ও শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে। বৃষ্টি হলে চাহিদা আরও কমে যেতে পারে। তিনি বলেন, ঈদে ১২ থেকে ১৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা হতে পারে। কিছু ইউনিট নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এছাড়াও হেভি ফুয়েল অয়েল বা ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে যাতে চাহিদা বেশি হলে পূরণ করা সম্ভব হয়। আমাদের পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে। সুতরাং ঈদের সময় সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে অনলাইন সভার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পিডিবির চারটি জোনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে, যাতে ঝড়-বৃষ্টিতে কোনো লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত মেরামত করা যায়।’ বিপিডিবি জানিয়েছে, ঈদের সময় শিল্পাঞ্চল ও অফিস-আদালতে বিদ্যুতের চাপ কমে যাওয়ায় আবাসিক এলাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা সহজ হবে। এছাড়া জাতীয় গ্রিডের ঝুঁকিপূর্ণ লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো আগেই পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন দেশব্যাপী বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিলে দ্রুত সমাধানে মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলী, লাইনম্যান ও কারিগরি টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে বিদ্যুৎ বিভাগ ও এর অধীনস্থ সকল দপ্তর বা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মস্থল বা ছুটিতে যে এলাকায় অবস্থা করবেন সেখানকার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। একই সঙ্গে তারা পরিদর্শন ও বিদ্যুৎ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব বরাবর প্রেরণ করবেন। ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ টিম গঠন করেছে। বিদ্যুৎ বিভাগ গ্রাহকদের অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ব্যবহার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীদের আগেভাগে রিচার্জ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • সদরঘাটে লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ

    সদরঘাটে লঞ্চ চলাচল সাময়িক বন্ধ

    দেশব্যাপী বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২৬ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। এর আগে ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট এবং আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) কর্তৃপক্ষ। ঘাট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বেলা ১১টা ২০ মিনিটের পর হঠাৎ আকাশে মেঘ জমে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় শুরু হয়। এ সময় দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ ফেরি ও লঞ্চসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে।  যদিও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে দুপুর ১২টা থেকে পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।

  • সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ, মাস পেরোলেই গ্রেপ্তার নেই

    সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ, মাস পেরোলেই গ্রেপ্তার নেই

    চট্টগ্রামের আনোয়ারায় তৃতীয় শ্রেণির মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার এক মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধান চার অভিযুক্তের কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর পরিবারকে সামাজিকভাবে সমঝতার প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার। মামলার আসামিরা অধরা, হুমকি ও সমঝোতার প্রস্তাব নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। তবে হুমকি এবং সমঝতার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার কিছু জানায়নি বলে জানান থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী তার খালার বাড়ি থেকে খালাত বোনের বাসায় যাওয়ার পথে তাকে তুলে নিয়ে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।  পরে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দোকানি আবু তাহের (৪২), তার সহকর্মী স্থানীয় রবিউল হোসেন (২৪), মো. ফারুক (২৩) এবং আনোয়ার হোসাইনকে (২২) অভিযুক্ত করে আনোয়ারা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়রা এবং স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন আবু তাহেরের এই দোকানে ২০১৬ সাল থেকেই এসব ঘটনা ঘটে আসছে, রাতে অপরিচিত নারী নিয়ে আসে তারা। এখন আবু তাহেরের বড় ভাই দক্ষিণ জেলা জিয়া স্মৃতি সংসদের সদস্য সচিব হওয়ায় আরও বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। দোকানের ভেতর আবু তাহেরের অন্দরমহল রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা এনামুল হক বলেন, সমাজে এসব ব্যাভিচারের সঠিক শাস্তি না হলে অপরাধ বেড়ে যাবে। বিচার না হওয়ায় সারা দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো তৌহিদুল আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। অপরাধী যেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা দরকার। কিশোরীর মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সোলেমান আলকাদেরী বলেন, একটি শিশুর জীবন যে ধ্বংস করল অথচ সেই ব্যক্তি এখনো অধরা রয়ে গেল বিষয়টি ভাবতেও অবাক লাগছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বলেন, মামলার পর থেকে আমাকে আসামির লোকজন বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমার মেয়ে এতিম, আমাকে দেখার কোনো লোক নেই। তাদের হুমকিতে এখন আমরা আতঙ্কে আছি। তিনি আরও জানান, আসামিরা লোকজন পাঠিয়ে সামাজিকভাবে সমঝতার প্রস্তাবও দিয়েছে। কিন্তু আমি আমার মেয়ের জীবন ধ্বংসকারীদের ফাঁসি চাই। সঠিক বিচার চাই। এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, মামলার পর থেকে আসামিদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান, মোবাইল ট্র্যাকিংসহ নানাভাবে চেষ্টা চলছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবেনা।

  • অর্থাভাবে থেমে থাকেনি ঢাবি শিক্ষার্থীর ভর্তি, পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা তারিক

    অর্থাভাবে থেমে থাকেনি ঢাবি শিক্ষার্থীর ভর্তি, পাশে দাঁড়ালেন ছাত্রদল নেতা তারিক

    অর্থাভাবে অনার্স শেষ বর্ষে ভর্তি অনিশ্চয়তায় পড়া ঢাবির এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা মো. তরিকুল ইসলাম তারিক। তার ব্যক্তিগত সহায়তায় শেষ পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছেন ওই শিক্ষার্থী। তারিক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।  রোববার (২৫ মে) ছিল তার অনার্স শেষ বর্ষে ভর্তির শেষ দিন। তবে পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও ভর্তি ফি জোগাড় করতে পারেননি তিনি। জানা গেছে, সংকটময় এই পরিস্থিতিতে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের নিজ এলাকার এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে তারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। বিষয়টি জানার পর তারিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত হন। পরে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ভর্তির প্রয়োজনীয় অর্থ পাঠিয়ে দেন।  সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘টাকার অভাবে আমার পড়াশোনা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারিক ভাই যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি নতুন করে পড়াশোনার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। অতীতেও তার মানবিক কাজের কথা শুনেছিলাম বলেই তার কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলাম।’ জানতে চাইলে তারিক বলেন, ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শুধু অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে— এটি মেনে নেওয়া যায় না। তাই এমুহূর্তে নিজেই আর্থিক সংকটের মধ্যে থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে তার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্র রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সাধারণ শিক্ষার্থীদের সেবা করা এবং সংকটে তাদের পাশে দাঁড়ানো।’তারিকের এই মানবিক উদ্যোগ শুধু একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতেই সহায়তা করেনি, বরং মানবিক ও দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছে।

  • ঈদ উপলক্ষে স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য দুঃসংবাদ

    ঈদ উপলক্ষে স্বর্ণ ক্রেতাদের জন্য দুঃসংবাদ

    পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও দাম বেড়েছে। নতুন করে প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। ফলে ঈদের আগে স্বর্ণ কিনতে আগ্রহী ক্রেতাদের গুনতে হবে বাড়তি খরচ। সোমবার (২৫ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। ঘোষিত নতুন দাম সোমবার সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকায়। এর আগে একই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৬৩ টাকা।  এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার ৪৯০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৯৭ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩৮৯ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার এবং স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় এনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত নতুন এ মূল্যহার অনুযায়ী দেশের বাজারে স্বর্ণ বিক্রি হবে।  এদিকে ঈদকে ঘিরে সাধারণত স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এমন সময়ে দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আবারও মূল্য সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস।

  • ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

    ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

    পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল সাড়ে ৭টায়। জামাতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে প্রধান জামাত সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। সোমবার (২৫ মে) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে এ তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। তিনি জানান, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে প্রবেশের জন্য ৪টি এবং বের হওয়ার জন্য ৭টি গেট রাখা হবে। এছাড়া কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোরবানির বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা হবে। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, পশুর বর্জ্য ড্রেনে না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে, যাতে নগরের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে।