Blog

  • চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন সাবেক সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী

    চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হলেন সাবেক সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী

    নিজস্ব প্রতিবেদন,চট্টগ্রাম :
    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিব উদ্দিন রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১৯ জুন (শুক্রবার) বিকেলে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। উক্ত ঘোষিত কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ছাত্রনেতা রিদুয়ান সিদ্দিকী।
    উল্লেখ্য, রিদুয়ান সিদ্দিকী সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রামের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন (সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বও পালন করেন।
    কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় রিদুয়ান সিদ্দিকী বলেন—
    “তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে এবং ছাত্রদলকে আরও গতিশীল করতে আমি কাজ করে যাব। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রাজপথের লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলকে একটি সুসংগঠিত ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং একই সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার রাজনৈতিক অভিভাবক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনকে।”
    রাজনৈতিক অঙ্গনে রিদুয়ান সিদ্দিকী বর্তমানে ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের একজন ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
    ছাত্ররাজনীতির পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের সাথে যুক্ত থেকে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।

  • আসামী গ্রেফতারের পর তদন্তকর্মকর্তাকে সুজন গ্রুপের হুমকি চট্টগ্রাম টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনীতে সাংবাদিক ও পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, হত্যার হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

    আসামী গ্রেফতারের পর তদন্তকর্মকর্তাকে সুজন গ্রুপের হুমকি চট্টগ্রাম টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনীতে সাংবাদিক ও পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, হত্যার হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ

    চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন টাইগারপাস রেলওয়ে কলোনী এলাকায় সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবি ও তার পরিবারের ওপর ধারাবাহিক সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার হুমকির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মর্জিনা আক্তার বেবি (৩০) অভিযোগ করে জানান, তিনি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে স্থানীয় অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতির সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশ করে আসছেন। তিনি জানান, সুজন গ্রুপ নামে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই তিনি ও তার পরিবার টার্গেটে পরিণত হন। অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল এবং ২০ মে পৃথক দুটি ঘটনায় তার বাসার সামনে হামলা চালানো হয়। উক্ত ঘটনার পর ২৩ মে রাতে আমার বাসায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করতে খুলশী থানার কয়েকজন কর্মকর্তা আসলে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের ভিডিও ফুটেজ প্রদান করে সহায়তা করি। পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশের জেরে ২৫ মে বাসার বাইরে তাকে গতিরোধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। একই সময়ে তার মা ও বোনকেও হুমকি দেওয়া হয়, যার প্রেক্ষিতে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় (জিডি নং-১৫৬৩, তারিখ: ২৬/০৫/২০২৬)। জিডি দায়ের করায়, গত ৬ জুন রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি লাঠি ও রড নিয়ে তাদের বাসার সামনে অবস্থান নেয়। এরপর সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর, পাথর নিক্ষেপ এবং পরে বাসায় ঢুকে সাংবাদিক ও তার মাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে ভুক্তভোগী খুলশি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ১৩। এই মামলায় ১৭ জুন সুজন গ্রুপের জসিমকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে, জসিম জামিনে বের হয়ে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মাসুদ কামাল ও এসআই আনোয়ারকে মুঠোফোনে হুমকি প্রদান করেন। যে বিষয়ে পুলিশে জিডি দায়ের করেছে উক্ত তদন্ত কর্মকর্তারা।
    ঘটনার বিষয়ে মর্জিনা আক্তার বলেন, আমি এই সুজন গ্রুপের বিরুদ্ধে পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। যা তিনি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়েছেন পাশাপাশি থানাকে সুজন ও তার বাহিনীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন। জানা গেছে, বর্তমানে তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং কন্ট্রাক্ট কিলার নিয়োগের কথা প্রচারেরও অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং নিজ বাসায় ফিরতে পারছেন না। সাংবাদিকতার কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি, নির্যাতন ও এলাকা ছাড়া করার চেষ্টা চলছে। তার পরিবারের সদস্যরাও বর্তমানে গৃহবন্দী অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত তদন্ত, দোষীদের গ্রেফতার এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। আমি আবারও এই গ্রুপের বিরুদ্ধে আরেকটি জিডি দায়ের করি। জিডি নং- ৯৯৪।
    এদিকে স্থানীয়ভাবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।

  • জিয়ার আদর্শ ধারণের আহ্বান, চন্দনাইশে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    জিয়ার আদর্শ ধারণের আহ্বান, চন্দনাইশে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

    চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় চন্দনাইশের হযরত শাহ আমিনউল্লাহ পার্কে উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি, দোহাজারী পৌরসভা বিএনপি এবং দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
    অনুষ্ঠানে বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, স্বাধীনতা-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনে তাঁর ভূমিকা এবং দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ জসীম উদ্দীন আহমেদ। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. ইদ্রিস মিয়া। সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব লায়ন হেলাল উদ্দিন।
    চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মো. জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য মোজাম্মেল হক বেলাল, ইখতিয়ার হোসেন, খন্দকার হেলাল উদ্দিন সিআইপি, আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, এম এ হাশেম রাজু, মাহামুদুর রহমান মাহদু, আবুল মনসুর, দেলোয়ার হোসেন, এহসান মওলা, মঞ্জুর আলম তালুকদার, শহীদ খান, সাইফুল করিম, মো. সিরাজুল ইসলাম, সেলিম উদ্দিন, আজম খান, শহীদুর ইসলাম, মো. শহিদুল্লাহ ও মো. মাহফুজসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
    অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও দেশের কল্যাণ কামনা করা হয়।

  • ১৭ দিনের শোক, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ; এক আবেদনে বদলে গেল রোকশানার দিন

    ১৭ দিনের শোক, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ; এক আবেদনে বদলে গেল রোকশানার দিন

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    মাত্র ১৭ দিন আগে থেমে গেছে সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষের জীবন। সেই সঙ্গে থমকে গেছে ২৮ বছর বয়সী রোকশানা বেগমের স্বপ্ন, ভেঙে পড়েছে তাঁর ছোট্ট সংসারের নিরাপত্তার দেয়াল।
    সিলেটের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাস করেন রোকশানা। তাঁর স্বামী সুমন আহমেদ ছিলেন একজন রিকশাচালক। প্রতিদিনের আয়েই চলত চার সদস্যের সংসার। কিন্তু প্রায় তিন মাস ধরে অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকার পর ৩৭ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর রোকশানার কাঁধে এসে পড়ে দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যতের পুরো দায়।
    বড় মেয়ে আয়েশা আক্তারের বয়স মাত্র ৮ বছর। ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনের বয়স ৩। বাবার মৃত্যুর পর তারা হয়তো এখনো পুরোপুরি বুঝতে পারেনি কী হারিয়েছে। কিন্তু সংসারের বাস্তবতা দ্রুতই বুঝিয়ে দিচ্ছিল, সামনে অপেক্ষা করছে অনিশ্চিত এক পথ।
    স্বামীর চিকিৎসার পেছনে যা সামান্য সঞ্চয় ছিল, তা আগেই শেষ হয়ে যায়। মৃত্যুর পর বাসাভাড়া, খাবার, সন্তানদের প্রয়োজনীয় খরচ ও দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো রোকশানার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। আত্মীয়স্বজনের সীমিত সহায়তায় কয়েক দিন চললেও দীর্ঘমেয়াদে সেই সহায়তা যে যথেষ্ট নয়, তা বুঝতে পেরেছিলেন তিনি।
    অবশেষে শেষ আশ্রয় হিসেবে সহায়তার আবেদন করেন সারা দেশে মানবিক জেলা প্রশাসক হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, স্বামীর মৃত্যুর পর পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে আছেন। সংসার চালানোর মতো কোনো স্থায়ী আয়ের উৎস নেই। মানবিক বিবেচনায় আর্থিক সহায়তা ও সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানান তিনি।
    রোকশানার আবেদনপত্রের প্রতিটি লাইনে ফুটে উঠেছিল সদ্য স্বামীহারা এক নারীর অসহায়ত্ব, দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের নির্মম বাস্তবতা।
    আবেদনটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার নজরে এলে তিনি বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করেন। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোকশানা বেগমকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
    জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারালে শুধু আর্থিক সংকটই নয়, পুরো পরিবার গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। বিশেষ করে ছোট শিশুদের ভবিষ্যৎ তখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
    রোকশানা জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “ডিসি স্যারের কাছে আজই আবেদন নিয়ে দেখা করেছিলাম। অনেক ব্যস্ততার মাঝেও স্যার ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে আমার সব কথা শুনেছেন। আমার সংসার কীভাবে চলছে, আমার সন্তানদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।”
    আরেক প্রশ্নের জবাবে এই অসহায় বিধবা নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি, কিন্তু কেউ সেভাবে পাশে দাঁড়াননি। ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করার পরপরই তিনি আমাকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।”
    এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো তাঁর সব সমস্যার সমাধান নয়। কিন্তু স্বামী হারানোর পর যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হচ্ছিল, তখন এই সহায়তা তাঁকে অন্তত একটি বার্তা দিয়েছে—তিনি একা নন।”
    তিনি আরও বলেন, “কখনো কখনো একটি আবেদনপত্র শুধু সাহায্য চাওয়ার কাগজ নয়; সেটি হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার শেষ চেষ্টা। সেই চেষ্টার প্রতি সাড়া দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।”
    ১৭ দিনের ব্যবধানে স্বামীকে হারিয়ে জীবনসংগ্রামের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করা রোকশানার জন্য এই সহায়তা হয়তো সাময়িক স্বস্তি। তবে দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে তাঁর দীর্ঘ পথচলা এখনো বাকি। আর সেই পথচলার শুরুতে প্রশাসনের এই সহায়তা তাঁকে নতুন করে বেঁচে থাকার সাহস জুগিয়েছে।

  • চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি গড়তে কাজ চলছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

    চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি গড়তে কাজ চলছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

    নিজস্ব প্রতিবেদক:
    চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বলে জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, আধুনিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি এবং নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নই বর্তমান নগর প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
    বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের ৩য় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    মেয়র বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় জলাবদ্ধতা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমেছে এবং চলতি বছরে তা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ৩৭টি খালের পাশাপাশি আরও প্রায় ৪০টি খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খাল দখলমুক্ত করে রিটেইনিং ওয়াল ও গাইডওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
    ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকার পরিচ্ছন্নতা ও যানচলাচল ব্যবস্থার উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল সংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করে রোগী, স্বজন ও চিকিৎসকদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি প্রবর্তক মোড় থেকে জয়নগর পর্যন্ত ফুটপাত আধুনিকায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।
    ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম তুলে ধরে মেয়র বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লার্ভিসাইড ব্যবহারের ফলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৩ সালে যেখানে প্রায় ৯ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল এবং ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল, সেখানে ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান।
    তিনি বলেন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য গবেষণা ও উন্নত ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। জিনোম সিকোয়েন্সিং, মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
    মেয়র জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা প্রদান করেছে। পাশাপাশি স্কুলগামী কিশোরীদের জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। ব্রেস্ট ক্যানসার, কোলোরেক্টাল ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
    অনুষ্ঠানে এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ বলেন, চট্টগ্রামে মলিকুলার ডায়াগনস্টিকস ও হিস্টোপ্যাথলজি সেবাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গবেষণামুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, হামসহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট রোগ নিয়ে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
    অনুষ্ঠানে এসপেরিয়া হেলথ কেয়ার লিমিটেডের চেয়ারম্যান গোলাম বাকি মাসুদ, পরিচালক জাহেদুল আলম, জয়নব রুমা, ডা. কামরুন নাহার জলি ও আবদুল মান্নানসহ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চিকিৎসক, গবেষক, সাংবাদিক এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।
    পরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

  • অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন, প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা

    নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের পাহাড়তলীতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার, বিএসটিআই সনদ ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনা এবং লেবেলিংয়ে অনিয়মের দায়ে একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
    গত বুধবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণার নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে পাহাড়তলীর ‘অমিত ফুড প্রোডাক্টস’-এ এ জরিমানা করা হয়।
    মোবাইল কোর্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটিতে মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদনের প্রমাণ পাওয়া যায়। উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা, ইঁদুর, পোকামাকড় ও বিড়ালের বিচরণ দেখা যায়। এছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রেড লাইসেন্স, বিএসটিআই সনদ ছাড়া খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্যপণ্যের লেবেলিংয়ে নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ না করার মতো বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে।
    এসব অপরাধে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩৩ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।
    একই দিনে পাহাড়তলীর ‘কনকা ড্রিংকিং ওয়াটার’ প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হলে মালিকপক্ষ সরকারি কাজে সহযোগিতা না করে পালিয়ে যায়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
    অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জেলা ও মেট্রোপলিটন কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এবং পাহাড়তলী থানা, সিএমপির সদস্যরা অংশ নেন।
    প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে

  • পলাতক থেকে গ্রেপ্তার: সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

    পলাতক থেকে গ্রেপ্তার: সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

    জাহেদুল ইসলাম শ্রাবণ
    একসময় দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি ছিলেন বেনজীর আহমেদ। ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং সর্বশেষ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তা এখন একাধিক গুরুতর মামলার আসামি। দুর্নীতি, অর্থ পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, জমি দখল, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা বেনজীর আহমেদকে অবশেষে বিদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।
    রোববার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
    ১৯৮৮ সালে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেওয়া বেনজীর আহমেদ কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তবে তাঁর ক্ষমতার বিস্তারের পাশাপাশি সম্পদ অর্জন, প্রভাব খাটানো এবং নানা অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসতে থাকে। ২০২৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হলে তিনি পরিবারসহ দেশ ত্যাগ করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।
    মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ
    বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি মানবতাবিরোধী অপরাধসংক্রান্ত। ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সে সময় তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার ছিলেন।
    এ ছাড়া র‍্যাবের বিশেষ হেফাজতকেন্দ্রে ব্যক্তিদের গুম করে রাখার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান আরেকটি মামলারও আসামি তিনি। ওই মামলায় একাধিক সাবেক সামরিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
    অবৈধ সম্পদ ও দুর্নীতির অভিযোগ
    দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও দুই কন্যার নামে বিপুল সম্পদের তথ্য উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জন করা হয়েছে এবং সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে।
    তদন্তে ঢাকার অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট, একাধিক ব্যাংক হিসাব, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, বিও অ্যাকাউন্ট এবং সঞ্চয়পত্রের তথ্য পাওয়া যায়। আদালতের নির্দেশে এসব সম্পদের বড় একটি অংশ জব্দ করা হয়েছে।
    অর্থ পাচারের অভিযোগ
    দুদকের করা পৃথক মামলায় বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যাংক থেকে উত্তোলনের পর তার বিনিয়োগ বা বৈধ ব্যবহার সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ওই অর্থ বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
    জমি দখল ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
    নিজ জেলা গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শত শত বিঘা জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভয়ভীতি, প্রভাব এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক পরিবারকে জমি বিক্রিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
    গোপালগঞ্জে গড়ে তোলা একটি বিলাসবহুল রিসোর্ট প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে প্রকল্পটির বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করা হয়। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রেও।
    বিতর্কিত ডক্টরেট ডিগ্রি
    বেনজীর আহমেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বিশেষ সুবিধায় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডক্টরেট প্রোগ্রামে ভর্তি হন। বিষয়টি নিয়ে বিতর্কের পর তাঁর অর্জিত ডিগ্রি স্থগিত করা হয়।
    পাসপোর্ট কেলেঙ্কারি
    সরকারি চাকরিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় বেসরকারি চাকরিজীবী পরিচয়ে পাসপোর্ট গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে অতি দ্রুত পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়েছিল, যা তৎকালীন সময়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
    আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা
    মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন। র‍্যাবের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনার কারণে তাঁর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
    দেশে ফিরলে কী অপেক্ষা করছে?
    বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হলে বেনজীর আহমেদকে একাধিক মামলায় আদালতের মুখোমুখি হতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, জমি দখল এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
    একসময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই সাবেক পুলিশপ্রধান এখন নিজেই আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর অপেক্ষায়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিচার এবং সেসবের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখন দেশের আইন ও আদালতের ওপরই নির্ভর করছে।

  • আনোয়ারায় মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার, আহত শিশু হাসপাতালে

    আনোয়ারায় মা-মেয়ের মরদেহ উদ্ধার, আহত শিশু হাসপাতালে

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে পরিবারের পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
    শনিবার (১৩ জুন) গভীর রাতে উপজেলার পরৈকোড়া ইউনিয়নের চেনামতি বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
    নিহতরা হলেন এনি বড়ুয়া (৪০) ও তার কিশোরী মেয়ে প্রিয়ন্তী বড়ুয়া (১৬)। আহত শিশুটি তাদের ছেলে পিয়াস বড়ুয়া। পরিবারের কর্তা সুজন বড়ুয়া পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী এবং ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন বলে জানা গেছে।
    স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, রাতের দিকে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে বাড়ির সামনে এনি বড়ুয়া ও তার ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে প্রিয়ন্তী বড়ুয়ার নিথর দেহ দেখতে পান তারা। দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক এনি বড়ুয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
    প্রতিবেশীরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে আনোয়ারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
    নিহতের স্বামী সুজন বড়ুয়া জানান, ঘটনার সময় তিনি চট্টগ্রাম নগরে কর্মরত ছিলেন। স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি এক প্রতিবেশীর সঙ্গে পূর্বের আর্থিক লেনদেনের বিষয় উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
    আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মা ও মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করতে অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

  • রাউজানে সশস্ত্র হামলায় যুবদল নেতার মৃত্যু

    রাউজানে সশস্ত্র হামলায় যুবদল নেতার মৃত্যু

    নিজস্ব প্রতিবেদক
    চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার একটি ব্যস্ত বাজারে সশস্ত্র হামলায় যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী (৪৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
    নিহত মাসুদুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ স্বপনের ছোট ভাই।
    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে বাজার এলাকায় অবস্থানকালে একদল অস্ত্রধারী ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুলির শব্দে বাজারজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি করেন।
    খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এবং জড়িতদের পরিচয় উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
    রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ বেলায়াত হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

  • সন্দ্বীপে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবলুসহ ২ জন গ্রেপ্তার, বিপুল অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

    সন্দ্বীপে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাবলুসহ ২ জন গ্রেপ্তার, বিপুল অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

    1. নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম
      সন্দ্বীপে বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ছেনী বাবলু’সহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। একই অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে।
      চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম মহোদয় ০৭ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ তারিখে জেলায় যোগদানের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও অপরাধ দমন এবং অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর নির্দেশনায় জেলার সকল থানা এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী ও অপরাধ দমনমূলক অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
      এরই ধারাবাহিকতায় সন্দ্বীপ থানার একটি বিশেষ অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মিলাদ হোসেন বাবলু ওরফে ছেনী বাবলু (৩৫), পিতা- শফি মেম্বার এবং মোঃ জুয়েল রানা (৩৬), পিতা- মৃত আবুল কাশেমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
      গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাহের বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ০৩টি দেশীয় এলজি, ০৪টি কার্তুজ, ০১টি ছেনি, ০১টি চাপাতি এবং নগদ ১১,২২০/- (এগারো হাজার দুইশত বিশ) টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
      পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মিলাদ হোসেন বাবলু দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং তার নামে ২০টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
      পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে অদ্যাবধি জেলার ১৭টি থানা এলাকায় মোট ১৩টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ৯টি মামলা রুজু এবং ১৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
      এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত ২,৪৫,০৮৩ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৯২ কেজি গাঁজা এবং অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ১৫২টি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ১৯৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
      ডাকাতি ও ডাকাতি প্রস্তুতি সংক্রান্ত ৫টি মামলায় ১৪ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বিভিন্ন ডাকাতির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
      চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বদ্ধপরিকর। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত