কেরানীগঞ্জে ৪ বছরের এক শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শাহ পরান নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার শেখহাটি এলাকায়। শনিবার (২৩ মে) দুপুরে এক অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে খবর পেয়ে র্যাব-১০ এর একটি টহল দল ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পের নির্জন ঝোপের ভেতর থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে। জানা যায়, ওই শিশুর পরিবার ও অভিযুক্ত শাহ পরান উভয়েই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের ঝাউবাড়ি এলাকার হাফেজ মিয়ার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন। শনিবার দুপুরে শিশুটির মা-বাবা বাসায় না থাকায় শাহ পরান শিশুকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাসা থেকে বের করে ঘুরতে নিয়ে যায়। পরে তাদের বহনকারী অটোরিকশা চালকের বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে র্যাব-১০ এর টহলরত টিমকে জানান। অটোচালক মো. রাকাত হোসেন (৩৮) বলেন, যুবকটি শিশুকে নিয়ে ঝিলমিল এলাকায় যাওয়ার জন্য আমার রিকশায় ওঠেন। রিকশায় উঠার পর যুবকটির কথাবার্তা সন্দেহ হয়। এরপর আমি তাদের ঝিলমিল এলাকায় নামিয়ে দিই। তিনি বলেন, ঘটনাটি আচ করার জন্য একটু দূরে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকি। এ সময় যুবকটি শিশুকে নিয়ে একটি ঝোপের ভেতর যায় এবং সেখান থেকে শিশুটির কান্নার শব্দ পাই। তখন আমি দ্রুত র্যাব -১০ কে অবহিত করি। খবর পেয়ে র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত যুবককে আটক করে। এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযুক্ত র্যাবের হেফাজতে আছে। র্যাব তাকে থানায় হস্তান্তর করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Blog
-

‘কেস ৯৫ শতাংশ সলভড, তাহলে বিচার ঝুলছে কেন?’
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার-প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন। অপরাধী পুলিশের কাছে জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার করার পরও কেন সাত দিনের তদন্ত সময় দেওয়া হলো- এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, বিচার বিলম্বিত হওয়ার কারণেই দেশে ধর্ষণ ও সহিংস অপরাধ বাড়ছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে এসব কথা বলেন মনিরা শারমিন। পোস্টে তিনি লিখেছেন, রামিসার হত্যাকারী অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের কাছে। সাথে আরও কেউ জড়িত কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কেস ৯৫% সলভড। আইনমন্ত্রী আবার কেন ৭ দিনের তদন্ত দিলেন? তদন্ত কর্মকর্তা এখন ঠিক কি তদন্ত করবেন? তিনি আরও লেখেন, আপনারা বলবেন, এটাই প্রক্রিয়া! এই সব ** এর প্রক্রিয়ার জন্যেই এই দেশে ধর্ষণ প্রতিবছর গাণিতিক হারে বেড়েছে। অপরাধী দোষ স্বীকার করার তিনদিনের মধ্যে কেন তার বিচার কার্যকর হবে না? ৭ দিন পরে ঈদ নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়বে। তখন রামিসার বাবার কথাই সত্য হবে। সবাই ভুলে যাবে। বিচার-প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির এই নেত্রী লেখেন, বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্যই কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন হয় না। দীর্ঘদিন পর এই রায়গুলি অপরাধী বা সম্ভাব্য অপরাধীদের মনের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে না। একই পোস্টে তিনি ২০১৮ সালের সুবর্ণচরের সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, আপনাদের ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুবর্ণচরের গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের কথা মনে আছে? সেই বিচার কবে হয়েছে জানেন? ২০২৪ সালে, তাও আবার শুধু রায় হয়েছে, কিন্তু মৃত্যুদণ্ড এখনও কার্যকর হয় নি। আমরা কয়জন খবর রেখেছি? মনিরা শারমিন আরও লেখেন, অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা হয় সম্ভাব্য অপরাধীদের ভয় দেখিয়ে অপরাধ থেকে নিবৃত্ত করতে। কিন্তু বিচারের এই দীর্ঘসূত্রিতার এই সংস্কৃতি কি জনগণকে সচেতন করছে? কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে? না। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, একটা বিচার কার্যকর করেন। অপরাধীকে জনসম্মুখে ফাঁসির আদেশ দেন। রামিসা, আছিয়ার পরিবারের সামনে বিচার কার্যকর করেন। দেখেন, ধর্ষণ বন্ধ হয় কিনা! এর আগে রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে গত মঙ্গলবার হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানার জবানবন্দি অনুযায়ী, হত্যার আগে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তিনি ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্র জানায়, রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার সময় ঘরের একটি কক্ষে স্ত্রী স্বপ্নাকে আটকে রেখেছিলেন সোহেল। পরে মরদেহ গুমের প্রস্তুতির সময় স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে পড়লে জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান সোহেল ও তার এক সহযোগী। পরে স্থানীয়রা স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। শিশু রামিসাকে বুধবার রাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। ঘটনার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবির ঝড় উঠেছে।
-

পানিতে ডুবে ২ ভাইয়ের মৃত্যু
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের কাঁঠালপাড়া গ্রামে পুকুরে ডুবে দুই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন কাঁঠালপাড়া গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে তামিম (১৩) এবং সুরুজ মিয়ার ছেলে সাদমান (১৪)। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে চার বন্ধু মিলে বাড়ির পাশের একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে তামিম ও সাদমান গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। তাদের সঙ্গে থাকা অপর দুই বন্ধু চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। পরে দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর দুই কিশোরকে উদ্ধার করে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের আহাজারিতে হাসপাতাল ও পুরো গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা রওশন মিয়া বলেন, “দুই ছেলেই খুব শান্ত-শিষ্ট ও ভদ্র ছিল। এমন আকস্মিক ঘটনায় পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে।” আরেক বাসিন্দা রায়হান জানান, “তারা সবসময় একসঙ্গে খেলাধুলা করত। গোসল করতে গিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হবে, তা কেউ ভাবতেও পারেনি।” চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। দুই কিশোরের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।”
-

বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু
নওগাঁর রাণীনগরে ফসলি মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে আক্কাস ফকির (৬০) ও তারেক (২২) নামে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পারইল ইউনিয়নের জাঠাইল মাঠে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত আক্কাস ফকির পারইল গ্রামের মৃত আসাদ ফকিরের ছেলে এবং তারেক একই গ্রামের আমিনুরের ছেলে। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে দুই কৃষক জাঠাইল মাঠে কৃষিকাজে যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায় এবং শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টি। এ সময় তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বজ্রপাতের কবলে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরে পাশের জমিতে কাজ করা অন্য কৃষকেরা তাদের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে গ্রামে নিয়ে আসেন। রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এটি প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত মৃত্যু হওয়ায় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
-

২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৬৩১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা চলমান পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৬৩১ জন। আর চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ২৭৯ জনে। এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ২৭৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ২০৮ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ হাজার ৪০৭ জন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪২ হাজার ৩৩৬ জন। মৃত্যুর পরিসংখ্যানে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ জন এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সময়ে মোট ৭ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া ১৫ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪০৫ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৩ জনের। এর আগে, চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল একদিনে সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড হয়েছিল। সেদিন হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৬৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৬৭ জন এবং সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৭ হাজার ৮৫৬ জনে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫ হাজার ১২৮ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪১ হাজার ১২০ জন।
-

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রক্তপাত বন্ধ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য : সিইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধ করাই নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, অতীতে প্রায় প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই খুনোখুনি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব বন্ধে সব পক্ষের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবে নির্বাচন কমিশন। রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজনই তাদের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, তা মোকাবিলায় ইসি সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তারা অবশ্যই দেশের কল্যাণ চায়। তাই সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনেও আগ্রহী হবে। এতে সরকারের গ্রহণযোগ্যতাও আরও বাড়বে। সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঐতিহাসিকভাবেই সংঘাতপূর্ণ। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মানুষ আহত হন। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের রক্তপাত চায় না। এজন্য রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংঘাত প্রতিরোধে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচিও হাতে নেবে। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। অতীতের সহিংসতার উদাহরণ তুলে ধরে সিইসি জানান, সুজনের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২৩৬ জন নিহত হন। এছাড়া আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রাণ হারান ১১৬ জন। এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্র শুধু জাতীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, তৃণমূলের গণতন্ত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা সরাসরি জনগণের সেবার সঙ্গে যুক্ত। তাই স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও শান্তিপূর্ণ রাখা জরুরি। দলীয় সরকারের আমলে নির্বাচন কমিশন চাপ অনুভব করবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন। পুলিশ, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সহযোগিতা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাওয়া গেছে এবং গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ও সেই সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদেরা দেশের মঙ্গল চান। সবাই মিলে কাজ করলে ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে এখনো কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই আগাম মন্তব্য করা সমীচীন নয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিশাল দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত বড় কাজ, যার জন্য ব্যাপক সহযোগিতা প্রয়োজন। ঋণখেলাপিদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন কারও প্রতি পক্ষপাত দেখায়নি। নির্বাচন কমিশনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ কমিশনের জন্য সংরক্ষণে কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যৎ কমিশন এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। ভোটার সচেতনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা ছাড়া সংঘাতমুক্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্ভব নয়। তবে জাতীয় নির্বাচন যেভাবে সংঘাতমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও তা করা যাবে বলে কমিশনের আত্মবিশ্বাস রয়েছে। সিইসি বলেন, নির্বাচন কমিশন কারও পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। এমন পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন। দেশের কল্যাণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের হাতেই রাষ্ট্রক্ষমতা থাকা উচিত। অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক সরকারই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। সবার সহযোগিতা নিয়েই অতীতে নির্বাচন পরিচালনা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
-

পাকিস্তানের ইসলামপুরা হলো কৃষ্ণনগর, মুস্তাফাবাদ এখন ধরমপুরা!
পাকিস্তানের ঐতিহাসিক শহর লাহোরে শুরু হয়েছে দেশভাগ-পূর্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ। প্রায় আট দশক পর শহরের বিভিন্ন এলাকা, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ইসলামীয় নাম পরিবর্তন করে পুরনো হিন্দু, শিখ, জৈন ও ঔপনিবেশিক আমলের নাম ফিরিয়ে আনছে পঞ্জাব সরকার। বিষয়টি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে লাহোরের বহুসাংস্কৃতিক অতীত। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত উক্তি— ‘হোয়াট’স ইন আ নেম?’— যেন বাস্তবেই প্রতিফলিত হচ্ছে পাকিস্তানে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশভাগের পর পরিবর্তিত হওয়া বহু ঐতিহাসিক নাম আবারও পুনর্বহাল করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইসলামপুরার পুরনো নাম কৃষ্ণনগর পুনরায় চালু করা হয়েছে। একইভাবে বাবরি মসজিদ চক এখন আবার জৈন মন্দির চক নামে পরিচিত হচ্ছে। সুন্নত নগরের নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে সন্ত নগর হিসেবে এবং মুস্তাফাবাদের পুরনো নাম ধরমপুরাও পুনর্বহাল করা হয়েছে। পাকিস্তানের পঞ্জাব সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য লাহোরের দেশভাগ-পূর্ব ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আবার সামনে আনা। কয়েক দিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পঞ্জাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে লাহোর ও আশপাশের এলাকার বিভিন্ন রাস্তা ও স্থাপনার ঐতিহাসিক নাম পুনর্বহালের পরিকল্পনা অনুমোদন দেওয়া হয়। গত দুই মাসে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুরনো নামসংবলিত নতুন সাইনবোর্ডও বসানো হয়েছে। ইতোমধ্যে অন্তত নয়টি স্থানের পুরনো পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্মী চক, যা একসময় মৌলানা জাফর আলি খান চক নামে পরিচিত ছিল। এখন আবার পুরনো নামেই ফিরছে এলাকাটি। এছাড়া ডেভিস রোড, যা পরে স্যার আগা খান রোড নামে পরিবর্তন করা হয়েছিল, সেটিও আগের নামে ফিরছে। ফাতিমা জিন্না রোডের নামও পুনরায় কুইন্স রোড করা হয়েছে। ‘দ্য প্রিন্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাহোরের ঐতিহাসিক লরেন্স গার্ডেনের নাম একসময় বদলে রাখা হয়েছিল ‘বাগ-এ-জিন্না’। দীর্ঘ সময় পর আবারও তার পুরনো নাম ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাচীরঘেরা শহর লাহোরের সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল ও লাহোর মানবাধিকার কাউন্সিলের সচিব কামরান লাশারী বলেন, সাধারণ মানুষ এখনও বহু স্থানকে পুরনো নামেই চেনে ও ডাকে। তার মতে, লাহোরের পরিচয় কেবল একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর নয়; বরং মুসলিম, হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান ও ঔপনিবেশিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক বহুমাত্রিক সংস্কৃতির শহর। তাই পুরনো নাম পুনর্বহালকে তিনি ঐতিহাসিক বাস্তবতার স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশভাগ-পূর্ব পঞ্জাবের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির আবহ আবারও ফিরে আসছে লাহোরে। ভারতের অমৃতসর থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরের এই শহর একসময় ছিল পঞ্জাব অঞ্চলের অভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, যেখানে নানা ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান ছিল। লাহোরের পুরনো বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাগান, আখড়া, মন্দির, গুরুদ্বার ও তীর্থস্থান এখনও সেই অতীত ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে। তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কারণে অধিকাংশ হিন্দু ও শিখ পরিবার শহর ছেড়ে চলে যায় কিংবা চলে যেতে বাধ্য হয়। এরপর ধীরে ধীরে বহু এলাকার নাম পরিবর্তন করে ইসলামীয় বা জাতীয়তাবাদী নামকরণ করা হয়। তবুও সরকারি নথিতে নাম বদলালেও সাধারণ মানুষের মুখে পুরনো নামগুলো টিকে ছিল। স্থানীয় দোকানদার, রিকশাচালক ও বাসিন্দাদের অনেকেই এখনও দৈনন্দিন জীবনে কৃষ্ণনগর, ধরমপুরা বা লক্ষ্মী চক নামগুলো ব্যবহার করেন। বর্তমানে লাহোরে ১০০টিরও বেশি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি ঔপনিবেশিক আমলের ভবন, গির্জা ও মহারাজা রণজিৎ সিংহের আমলের বিভিন্ন স্থাপনা পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে। এদিকে লাহোর দুর্গ কর্তৃপক্ষ শিখ রাজপরিবারের শেষ বংশধর রাজকুমারী বাম্বা সাদারল্যান্ডের একটি চিত্রকর্মও পুনরুদ্ধার করেছে। কামরান লাশারী জানান, আগে মহারাজা রণজিৎ সিংহের মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা ভাঙচুর করা হয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি বদলেছে এবং মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি উদার ও উন্মুক্ত চিন্তার হয়ে উঠেছে বলে তিনি মনে করেন। সাংস্কৃতিক পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগে লাহোরের ক্রীড়া ঐতিহ্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ঐতিহাসিক ক্রিকেট মাঠ ও মিন্টো পার্কের পুরনো কুস্তি আখড়া পুনরুদ্ধারের প্রস্তাব দিয়েছেন। এই মাঠ থেকেই দেশভাগের আগে উঠে এসেছিলেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার লালা অমরনাথ। একই মাঠ পাকিস্তানকে উপহার দিয়েছে ইনজামাম-উল-হকের মতো তারকা ক্রিকেটার। একসময় সেখানে কুস্তি লড়েছেন কিংবদন্তি গামা পালোয়ান ও ইমাম বখশও। সব মিলিয়ে, লাহোরে পুরনো নাম পুনর্বহালের এই উদ্যোগকে কেবল নাম পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস, সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও বহুত্ববাদী পরিচয় পুনরুদ্ধারের প্রতীকী প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। -

লেফটেন্যান্ট তানজিম হত্যা মামলায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার হত্যা মামলায় চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, চারজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবুল মনসুর সিদ্দিকী এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খুরশেদ আলম চৌধুরী। তিনি জানান, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্য ও উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পর্যালোচনা শেষে আদালত এই রায় দেন। ২০২৪ সালে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের পূর্ব মাইজপাড়া গ্রামে ডাকাতির খবর পেয়ে যৌথবাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ডাকাত দলের সদস্যদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট তানজিম সারোয়ার। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর—আইএসপিআর—জানায়, ২৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে চকরিয়ার ডুলাহাজারা এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বাড়ি ঘিরে ফেলে যৌথবাহিনী। এ সময় লেফটেন্যান্ট তানজিম দুই সন্ত্রাসীকে চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাকে ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে চকরিয়া খ্রিস্টান হাসপাতালে এবং পরে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে ভোরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছিল।
-
পটিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন
পটিয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের উদ্বোধন

ইমরান হোসেন মুন্না
পটিয়া প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহের শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকালে ফায়ার সার্ভিস কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও প্রতিষ্ঠানের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান বলেন, “সচেতনতাই পারে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে।” তিনি অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন এবং গণসচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদারে ফায়ার সার্ভিসকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেন।
এসময় অতিথিবৃন্দ ফায়ার ফাইটারদের পক্ষ থেকে সালাম গ্রহণ করেন এবং অগ্নিনির্বাপক বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পরিদর্শন করেন।
পটিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রাজেশ বড়ুয়া-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া সরকারি কলেজ রোভার স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), যুব রেড ক্রিসেন্ট এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্যাডেট ফোরাম (বিওয়াইসিএফ) পটিয়া উপজেলা শাখা-এর সদস্যবৃন্দ। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

